Nagorik Somoy News

বাংলামোটরে সাবেক যুবদল নেতার পিস্তলের বাঁটের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী রক্তাক্ত



বাংলামোটরে সাবেক যুবদল নেতার পিস্তলের বাঁটের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী রক্তাক্ত

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বাংলামোটরে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিস্তল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার এবং জোড়া ফাঁকা গুলি ছুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ সায়মনের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত ওষুধ ব্যবসায়ী মো. সোহানকে (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর পাশের গলিতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। সোহানের বাংলামোটর এলাকাতেই একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যায় রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর গলি দিয়ে যাওয়ার সময় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সায়মন তাঁর বেশ কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে হঠাৎ সোহানের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সায়মন সরাসরি হাতের পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। এতে সোহানের মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সায়মন নিজের কাছে থাকা পিস্তল থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে ভয়ে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও অধিবাসীরা ধাওয়া দিলে সায়মন ও তাঁর সহযোগীরা সটকে পড়ে নিকটস্থ একটি ভবনে ঢুকে আত্মগোপন করেন।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা গলিতে জড়ো হয়ে সায়মনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সায়মনের অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর দাবিকৃত চাঁদা না দিলে কিংবা কথা না শুনলেই ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মারধর ও তাণ্ডব চালাতেন।

খবর পেয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যে ভবনে অভিযুক্তরা লুকিয়ে ছিলেন, সেটির চারপাশ ঘিরে ফেলে। ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, ওষুধ ব্যবসায়ীকে আঘাত ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে মানুষকে তটস্থ করে রেখেছিলেন। অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকেই অনেক আগেই হাতিরঝিল থানা যুবদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বাংলামোটরে সাবেক যুবদল নেতার পিস্তলের বাঁটের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী রক্তাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা বাংলামোটরে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিস্তল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার এবং জোড়া ফাঁকা গুলি ছুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ সায়মনের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত ওষুধ ব্যবসায়ী মো. সোহানকে (৩৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর পাশের গলিতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। সোহানের বাংলামোটর এলাকাতেই একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যায় রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর গলি দিয়ে যাওয়ার সময় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সায়মন তাঁর বেশ কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে হঠাৎ সোহানের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সায়মন সরাসরি হাতের পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। এতে সোহানের মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সায়মন নিজের কাছে থাকা পিস্তল থেকে দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে ভয়ে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও অধিবাসীরা ধাওয়া দিলে সায়মন ও তাঁর সহযোগীরা সটকে পড়ে নিকটস্থ একটি ভবনে ঢুকে আত্মগোপন করেন।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা গলিতে জড়ো হয়ে সায়মনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সায়মনের অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর দাবিকৃত চাঁদা না দিলে কিংবা কথা না শুনলেই ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মারধর ও তাণ্ডব চালাতেন।

খবর পেয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যে ভবনে অভিযুক্তরা লুকিয়ে ছিলেন, সেটির চারপাশ ঘিরে ফেলে। ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, ওষুধ ব্যবসায়ীকে আঘাত ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে মানুষকে তটস্থ করে রেখেছিলেন। অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকেই অনেক আগেই হাতিরঝিল থানা যুবদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বাংলামোটরে সাবেক যুবদল নেতার পিস্তলের বাঁটের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী রক্তাক্ত
0:00 / 0:00
1x