চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত ড্রেনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। এতে আমনুরা-পাউলি এলাকার অন্তত পাঁচটি ফসলি মাঠের অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরকারি খাল হয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে। স্বস্তি ফিরেছে কয়েক হাজার কৃষকের মাঝে।স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাউলি এলাকায় নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের একটি কালভার্টের নিচ দিয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের কয়েকটি মাঠের বর্ষাকালীন পানি নিষ্কাশিত হয়। আগে কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি ফসলি জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালভার্টের নিচ দিয়ে বের হতো। এতে নিচু এলাকার ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানি নামতে দীর্ঘ সময় লাগত।এ সমস্যা সমাধানে কালভার্ট থেকে সরকারি খাল পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক নিজের অর্থায়নে এ কাজ করেন। ফলে বর্তমানে ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত না হয়ে সরাসরি পাইপের মাধ্যমে সরকারি খালে গিয়ে পড়ছে।কৃষকদের ভাষ্য, আগে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে ৭ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত সময় লাগত। এ সময়ে নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় ধানের ক্ষতি হতো। ড্রেন নির্মাণের পর একই পরিমাণ পানি প্রায় ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে নেমে যাচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি কমার পাশাপাশি দ্রুত জমি চাষাবাদের উপযোগী হচ্ছে।কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক বলেন, তিনি নিজেও কৃষক। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কালভার্টের উত্তরের কিছু জমিতে চাষাবাদ করে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া যেত না। পরে জমিটি ভরাট করে ফলবাগান করার উদ্যোগ নেন। তবে আশপাশের উঁচু জমির পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি বিবেচনা করে কৃষকদের সুবিধার জন্য মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেন। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, নির্মিত ড্রেন দিয়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। আগে ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও এখন তা ড্রেনের মাধ্যমে বের হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এ ড্রেনের কারণে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানান তিনি।স্থানীয় কৃষকদের আশা, বর্ষা মৌসুমে ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা গেলে পাউলি ও আমনুরা এলাকার ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা আরও কমবে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।