Nagorik Somoy News

পঞ্চগড়ে বিএডিসির সার গুদামে ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন



পঞ্চগড়ে বিএডিসির সার গুদামে ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ছবি : নাগরিক সময়

কৃষকের মাঠে সার পৌঁছানোর আগেই কোথায় আটকে যাচ্ছে সরবরাহ—মজুত ব্যবস্থাপনায় কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, নির্ধারিত নিয়মে সার বিতরণ হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে রেখে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার পিএফজি সার গুদামটি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় গুদামে থাকা সারের প্রকৃত মজুত, সরবরাহের নথিপত্র, বিতরণ কার্যক্রম এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিদর্শনকে শুধু নিয়মিত তদারকি হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সময়ে গুদামে সরকারি বরাদ্দের সার কতটা মজুত রয়েছে, সেই সার কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কৃষক পর্যায়ে যাচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিদর্শনকালে ইউএনও গুদামের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এদিকে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে। ফলে সরকারি গুদাম থেকে ডিলার ও কৃষক পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি কতটা রয়েছে—সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গুদামের প্রকৃত মজুত ও কাগজপত্রের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা হলে সরকারি সারের অপব্যবহার বা অনিয়মের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন কি না, সেটিও প্রশাসনের নজরদারির আওতায় থাকা জরুরি।

পরিদর্শনের সময় ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি পর্যায়ে মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সার গুদামগুলোর মজুত পরিস্থিতি এবং সরবরাহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোথাও যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—গুদামের মজুতের সঙ্গে নথিপত্রের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বরাদ্দকৃত সার যথাসময়ে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোথাও সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কি না। এসব বিষয় নিয়মিত যাচাই করা হলে সারের বাজারে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানোও নিশ্চিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পঞ্চগড়ে বিএডিসির সার গুদামে ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃষকের মাঠে সার পৌঁছানোর আগেই কোথায় আটকে যাচ্ছে সরবরাহ—মজুত ব্যবস্থাপনায় কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, নির্ধারিত নিয়মে সার বিতরণ হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে রেখে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার পিএফজি সার গুদামটি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় গুদামে থাকা সারের প্রকৃত মজুত, সরবরাহের নথিপত্র, বিতরণ কার্যক্রম এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিদর্শনকে শুধু নিয়মিত তদারকি হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সময়ে গুদামে সরকারি বরাদ্দের সার কতটা মজুত রয়েছে, সেই সার কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কৃষক পর্যায়ে যাচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিদর্শনকালে ইউএনও গুদামের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এদিকে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে। ফলে সরকারি গুদাম থেকে ডিলার ও কৃষক পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি কতটা রয়েছে—সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গুদামের প্রকৃত মজুত ও কাগজপত্রের হিসাব নিয়মিত যাচাই করা হলে সরকারি সারের অপব্যবহার বা অনিয়মের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা প্রকৃতপক্ষে নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন কি না, সেটিও প্রশাসনের নজরদারির আওতায় থাকা জরুরি।

পরিদর্শনের সময় ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি পর্যায়ে মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সার গুদামগুলোর মজুত পরিস্থিতি এবং সরবরাহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোথাও যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—গুদামের মজুতের সঙ্গে নথিপত্রের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বরাদ্দকৃত সার যথাসময়ে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোথাও সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কি না। এসব বিষয় নিয়মিত যাচাই করা হলে সারের বাজারে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানোও নিশ্চিত হবে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পঞ্চগড়ে বিএডিসির সার গুদামে ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন
0:00 / 0:00
1x