Nagorik Somoy News

সুনামগঞ্জে নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার নেপথ্যে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট



সুনামগঞ্জে নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার নেপথ্যে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট
গ্রেফতারকৃত মোছা. শোবি বেগম (৩০) ছবি: নাগরিক সময়

ইউরোপের দেশ ইতালিতে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই মূল সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম সিলেটের শাহপরাণ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নারী পাচারকারী ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইছাকপুর গ্রামের মোছা. শোবি বেগম (৩০) ও তার ভাই শামছুল (২৮)। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা অন্তত চারটি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরাণ থানা-পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি মূলত ইতালি, লিবিয়া ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। দেশে অবস্থানরত শোবি বেগম ও তার ভাই শামছুল স্থানীয় সহজ-সরল ও বেকার যুবকদের সরাসরি ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন। ইতালিতে থাকা শোবি বেগমের স্বামী মেশকার মিয়াসহ ইতালি ও লিবিয়া প্রবাসী দুই ভাই মূলত প্রবাসের নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতেন।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি ইতালি পাঠানোর কথা বলে বিমানে বা বিকল্প পথে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে পৌঁছানোর পরই লিবিয়ায় থাকা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রিত মাফিয়া সদস্যরা তাদের বিমানবন্দর থেকেই অপহরণ করে মরুভূমির ভেতরের গোপন টর্চার সেল ও মাফিয়া ক্যাম্পে নিয়ে জিম্মি করত। সেখানে সশস্ত্র পাহারায় রেখে লোহার রড দিয়ে পেটানো, হাত-পা ভেঙে দেওয়া, পিঠে ইলেকট্রিক শক দেওয়া ও আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিদিনের নির্যাতনের আর্তচিৎকার ও ভিডিও রেকর্ড দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো। স্বজনেরা শেষ সম্বল ও বসতবাড়ি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা পাচারকারীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হতেন।

​চক্রটির শিকার সাদীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সইফুল মিয়ার কাছ থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন দফায় ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। একই গ্রামের আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিন আমিনকে পাঠাতে ২৫ লাখ টাকা, জহুর আলীর ছেলে সেলিমের কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা এবং এমরান হোসেন আদিলসহ অনেকের কাছ থেকেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়ার মাফিয়া ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

​জগন্নাথপুর থানার এসআই নূর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে। তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


সুনামগঞ্জে নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার নেপথ্যে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইউরোপের দেশ ইতালিতে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই মূল সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম সিলেটের শাহপরাণ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নারী পাচারকারী ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইছাকপুর গ্রামের মোছা. শোবি বেগম (৩০) ও তার ভাই শামছুল (২৮)। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা অন্তত চারটি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরাণ থানা-পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি মূলত ইতালি, লিবিয়া ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। দেশে অবস্থানরত শোবি বেগম ও তার ভাই শামছুল স্থানীয় সহজ-সরল ও বেকার যুবকদের সরাসরি ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন। ইতালিতে থাকা শোবি বেগমের স্বামী মেশকার মিয়াসহ ইতালি ও লিবিয়া প্রবাসী দুই ভাই মূলত প্রবাসের নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতেন।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি ইতালি পাঠানোর কথা বলে বিমানে বা বিকল্প পথে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে পৌঁছানোর পরই লিবিয়ায় থাকা ভাইয়ের নিয়ন্ত্রিত মাফিয়া সদস্যরা তাদের বিমানবন্দর থেকেই অপহরণ করে মরুভূমির ভেতরের গোপন টর্চার সেল ও মাফিয়া ক্যাম্পে নিয়ে জিম্মি করত। সেখানে সশস্ত্র পাহারায় রেখে লোহার রড দিয়ে পেটানো, হাত-পা ভেঙে দেওয়া, পিঠে ইলেকট্রিক শক দেওয়া ও আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিদিনের নির্যাতনের আর্তচিৎকার ও ভিডিও রেকর্ড দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো। স্বজনেরা শেষ সম্বল ও বসতবাড়ি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা পাচারকারীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হতেন।

​চক্রটির শিকার সাদীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সইফুল মিয়ার কাছ থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন দফায় ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। একই গ্রামের আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিন আমিনকে পাঠাতে ২৫ লাখ টাকা, জহুর আলীর ছেলে সেলিমের কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা এবং এমরান হোসেন আদিলসহ অনেকের কাছ থেকেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়ার মাফিয়া ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

​জগন্নাথপুর থানার এসআই নূর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে। তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সুনামগঞ্জে নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার নেপথ্যে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট
0:00 / 0:00
1x