Nagorik Somoy News

কদমতলীতে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত মামলা করতে গিয়ে পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগ



কদমতলীতে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত মামলা করতে গিয়ে পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগ

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন খানকা শরীফ হাবিব নগর এলাকার রোজ গার্ডেন ভবনে একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক উম্মে সালমা ও মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হামলার সময় সাংবাদিক উম্মে সালমার গলায় থাকা আনুমানিক এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত একটি ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে আহত সাংবাদিকরা চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কদমতলী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং পাল্টা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন থানার ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈর বিরুদ্ধে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, খানকা শরীফ হাবিব নগরের রোজ গার্ডেন ভবনে আবু জাহেদ ও রোমানাকে ঘিরে একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে যান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় রোমানা, সিমা আক্তার, রিমা আক্তার, সুমনা, কিরন নেছা ও আবু জাহেদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় সাংবাদিক উম্মে সালমা ও মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির আহত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং উম্মে সালমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিন্তু ফোন করার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তাদের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আহত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, জরুরি সেবায় ফোন করার পরও কেন দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

হামলার পর আহত সাংবাদিকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে তারা কদমতলী থানায় যান এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়।

সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, এ সময় কদমতলী থানার ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈ তাদের পাল্টা মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।

তবে এ বিষয়ে ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্ত পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে কোনো পুলিশ সদস্য অর্থের বিনিময়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সময় হামলার অভিযোগ নতুন করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সাংবাদিকতার কাজে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা ও স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে।

পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

তাদের দাবি, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও স্বর্ণের চেইন নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং থানায় মামলা গ্রহণে কোনো গড়িমসি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক।

পাশাপাশি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ এবং ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে ওঠা পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা দ্রুত মামলা গ্রহণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Image

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


কদমতলীতে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত মামলা করতে গিয়ে পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন খানকা শরীফ হাবিব নগর এলাকার রোজ গার্ডেন ভবনে একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক উম্মে সালমা ও মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হামলার সময় সাংবাদিক উম্মে সালমার গলায় থাকা আনুমানিক এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত একটি ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে আহত সাংবাদিকরা চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কদমতলী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং পাল্টা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন থানার ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈর বিরুদ্ধে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, খানকা শরীফ হাবিব নগরের রোজ গার্ডেন ভবনে আবু জাহেদ ও রোমানাকে ঘিরে একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে যান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় রোমানা, সিমা আক্তার, রিমা আক্তার, সুমনা, কিরন নেছা ও আবু জাহেদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় সাংবাদিক উম্মে সালমা ও মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির আহত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং উম্মে সালমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিন্তু ফোন করার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তাদের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আহত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, জরুরি সেবায় ফোন করার পরও কেন দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

হামলার পর আহত সাংবাদিকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে তারা কদমতলী থানায় যান এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়।

সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, এ সময় কদমতলী থানার ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈ তাদের পাল্টা মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।

তবে এ বিষয়ে ওসি তদন্ত সজীব কুমার বাড়ৈর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্ত পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে কোনো পুলিশ সদস্য অর্থের বিনিময়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের সময় হামলার অভিযোগ নতুন করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সাংবাদিকতার কাজে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা ও স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে।

পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।

তাদের দাবি, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও স্বর্ণের চেইন নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এবং থানায় মামলা গ্রহণে কোনো গড়িমসি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক।

পাশাপাশি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ এবং ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে ওঠা পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা দ্রুত মামলা গ্রহণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কদমতলীতে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত মামলা করতে গিয়ে পাল্টা মামলার হুমকির অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x