Nagorik Somoy News

থানাহাজত থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না ৪০ ঘণ্টা পর কেরানীগঞ্জে আটক মিতু



থানাহাজত থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না ৪০ ঘণ্টা পর কেরানীগঞ্জে আটক মিতু
আসামি মিতু আক্তার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার নারী আসামি মিতু আক্তারকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানোর পর শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মিতুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক।

তিনি জানান, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যাত্রাবাড়ী থানার হাজতে থাকা মিতু আক্তার বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘ অভিযানের পর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিতু আক্তার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হাজী সোহেল হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড চলাকালে তাকে থানাহাজতে রাখা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে থানাহাজত থেকে কৌশলে বের হয়ে যান মিতু। তিনি হাজতের গেটের তালা খুলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, নারী আসামিদের ক্ষেত্রে সাধারণত হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই মিতু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে কীভাবে একজন হত্যা মামলার আসামি থানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর থানায় দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি থানাহাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা এবং আসামির পালিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।

একজন হত্যা মামলার আসামি থানাহাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রিমান্ডে থাকা একজন আসামি কীভাবে হাজতের গেটের তালা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলেন এবং এরপর থানার নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছালেন—তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

মিতু আক্তারকে আটকের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


থানাহাজত থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না ৪০ ঘণ্টা পর কেরানীগঞ্জে আটক মিতু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার নারী আসামি মিতু আক্তারকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানোর পর শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মিতুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক।

তিনি জানান, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যাত্রাবাড়ী থানার হাজতে থাকা মিতু আক্তার বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘ অভিযানের পর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিতু আক্তার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হাজী সোহেল হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড চলাকালে তাকে থানাহাজতে রাখা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে থানাহাজত থেকে কৌশলে বের হয়ে যান মিতু। তিনি হাজতের গেটের তালা খুলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, নারী আসামিদের ক্ষেত্রে সাধারণত হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই মিতু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে কীভাবে একজন হত্যা মামলার আসামি থানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর থানায় দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি থানাহাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা এবং আসামির পালিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।

একজন হত্যা মামলার আসামি থানাহাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রিমান্ডে থাকা একজন আসামি কীভাবে হাজতের গেটের তালা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলেন এবং এরপর থানার নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছালেন—তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

মিতু আক্তারকে আটকের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
থানাহাজত থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না ৪০ ঘণ্টা পর কেরানীগঞ্জে আটক মিতু
0:00 / 0:00
1x