আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার জেরে ব্যাংক হিসাব তলবের পরই এবার নতুন মোড় নিয়েছে তাঁর পারিভাক্রিক সংযোগ। সালমানের শ্বশুর ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে কানাডায় এক দশকের সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের এক বিশাল সাম্রাজ্যের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।
কানাডার একাধিক ব্যাংকে শেখ নূরের পরিবারের সদস্যদের নামে অন্তত ৪৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে পাওয়ার পর এনবিআর ও সিআইসি যৌথভাবে নয়জন ব্যক্তির কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
এক দশকে ১৬৫ আর্থিক লেনদেন ও সন্দেহজনক তথ্য:
তদন্তের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ বছরে শেখ নূর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কানাডার ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি অর্থ লেনদেন করেছেন। মোট ১৬৫টি বড় লেনদেনের মধ্যে ১৭টি সরাসরি সন্দেহজনক লেনদেন এবং ১১৮টি বিশাল অঙ্কের নগদ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এসব পাচার ও লেনদেনে ডলার, পাউন্ড, সিঙ্গাপুরি ডলার ও থাই বাথ ব্যবহার করা হয়েছে।
দেশে বিশাল ব্যবসা, আয়কর নথিতে চরম অসংগতি:
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ ও খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ১৪টি কোম্পানির পরিচালকের পদে রয়েছেন শেখ নূর ইসলাম। এসবের মধ্যে রয়েছে ডমিনোজ পিজা, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, স্পাইস টেলিভিশন, রেডিও মাসালা, ফুওয়াং বোলিং, পল বেকারি, কয়লা পাব এবং স্টারবার ক্যাফে।
কিন্তু আয়কর রিটার্নে দেখা গেছে চরম বৈপরীত্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি দেশে ৯৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রেমিট্যান্স এনে মোট সম্পদ ১০৪ কোটি টাকা দেখালেও কর দিয়েছেন মাত্র ৬৯ লাখ টাকা! অথচ এর আগের বছর ১৪ কোটি টাকা সম্পদে তিনি ৫ কোটি টাকা কর দিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী বিদেশে থাকা সম্পদ ও নাগরিকত্বের তথ্য রিটার্নে বাধ্যতামূলকভাবে জানানোর নিয়ম থাকলেও শেখ নূর তা সম্পূর্ণ গোপন করেছেন।
কানাডায় আলিশান ব্যাংক হিসাব ও যৌথ ব্যবসা:
কানাডায় শেখ নূরের নিজস্ব ‘জুম জুম পিজা’ এবং তাঁর স্ত্রী শিলা ইসলামের ‘ডমিনোজ পিজা’ পরিচালনা ছাড়াও তাঁদের দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নামে টরন্টো-ডোমিনিয়ন ব্যাংক (TD Bank) ও ব্যাংক অব মন্ট্রিলে (BMO) যৌথ একাধিক সক্রিয় সঞ্চয়ী ও মর্টগেজ হিসাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে সংযোগ কতটা?
সম্প্রতি নিজের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তোলার পর বিএফআইইউ সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে। তবে এনবিআর ও সিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেছেন যে, শ্বশুর শেখ নূরের পরিবারের বিরুদ্ধে চলা এই বিশাল অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অনুসন্ধানটি তাঁদের রুটিন গোয়েন্দা নজরদারির ফল। বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত এপ্রিল থেকেই এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং জুনে তাঁদের নথিপত্র চাওয়া হয়।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কর আইন অনুযায়ী শেখ নূরের দেশ-বিদেশের সম্পত্তি ক্রোক, বাজেয়াপ্ত কিংবা নিলামে বিক্রির আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজস্ব বিভাগ।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার জেরে ব্যাংক হিসাব তলবের পরই এবার নতুন মোড় নিয়েছে তাঁর পারিভাক্রিক সংযোগ। সালমানের শ্বশুর ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে কানাডায় এক দশকের সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের এক বিশাল সাম্রাজ্যের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট।
কানাডার একাধিক ব্যাংকে শেখ নূরের পরিবারের সদস্যদের নামে অন্তত ৪৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে পাওয়ার পর এনবিআর ও সিআইসি যৌথভাবে নয়জন ব্যক্তির কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
এক দশকে ১৬৫ আর্থিক লেনদেন ও সন্দেহজনক তথ্য:
তদন্তের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ বছরে শেখ নূর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কানাডার ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি অর্থ লেনদেন করেছেন। মোট ১৬৫টি বড় লেনদেনের মধ্যে ১৭টি সরাসরি সন্দেহজনক লেনদেন এবং ১১৮টি বিশাল অঙ্কের নগদ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এসব পাচার ও লেনদেনে ডলার, পাউন্ড, সিঙ্গাপুরি ডলার ও থাই বাথ ব্যবহার করা হয়েছে।
দেশে বিশাল ব্যবসা, আয়কর নথিতে চরম অসংগতি:
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ ও খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ১৪টি কোম্পানির পরিচালকের পদে রয়েছেন শেখ নূর ইসলাম। এসবের মধ্যে রয়েছে ডমিনোজ পিজা, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, স্পাইস টেলিভিশন, রেডিও মাসালা, ফুওয়াং বোলিং, পল বেকারি, কয়লা পাব এবং স্টারবার ক্যাফে।
কিন্তু আয়কর রিটার্নে দেখা গেছে চরম বৈপরীত্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি দেশে ৯৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রেমিট্যান্স এনে মোট সম্পদ ১০৪ কোটি টাকা দেখালেও কর দিয়েছেন মাত্র ৬৯ লাখ টাকা! অথচ এর আগের বছর ১৪ কোটি টাকা সম্পদে তিনি ৫ কোটি টাকা কর দিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী বিদেশে থাকা সম্পদ ও নাগরিকত্বের তথ্য রিটার্নে বাধ্যতামূলকভাবে জানানোর নিয়ম থাকলেও শেখ নূর তা সম্পূর্ণ গোপন করেছেন।
কানাডায় আলিশান ব্যাংক হিসাব ও যৌথ ব্যবসা:
কানাডায় শেখ নূরের নিজস্ব ‘জুম জুম পিজা’ এবং তাঁর স্ত্রী শিলা ইসলামের ‘ডমিনোজ পিজা’ পরিচালনা ছাড়াও তাঁদের দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নামে টরন্টো-ডোমিনিয়ন ব্যাংক (TD Bank) ও ব্যাংক অব মন্ট্রিলে (BMO) যৌথ একাধিক সক্রিয় সঞ্চয়ী ও মর্টগেজ হিসাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে সংযোগ কতটা?
সম্প্রতি নিজের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তোলার পর বিএফআইইউ সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে। তবে এনবিআর ও সিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেছেন যে, শ্বশুর শেখ নূরের পরিবারের বিরুদ্ধে চলা এই বিশাল অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অনুসন্ধানটি তাঁদের রুটিন গোয়েন্দা নজরদারির ফল। বিএফআইইউ-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত এপ্রিল থেকেই এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং জুনে তাঁদের নথিপত্র চাওয়া হয়।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কর আইন অনুযায়ী শেখ নূরের দেশ-বিদেশের সম্পত্তি ক্রোক, বাজেয়াপ্ত কিংবা নিলামে বিক্রির আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজস্ব বিভাগ।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন