Nagorik Somoy News

এআইয়ে দক্ষ প্রশাসন নাগরিক সেবা হবে আরও দ্রুত ও সহজ: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা



এআইয়ে দক্ষ প্রশাসন নাগরিক সেবা হবে আরও দ্রুত ও সহজ: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সরকারি প্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং এর ফলে নাগরিক সেবা দ্রুত, সহজ ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘Strategic Use of AI Tools & Cyber Security for PMO Officials’ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য নয়; প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সহজ করাই মূল উদ্দেশ্য। এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কৃষি, শিল্প ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। মানুষের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এআইয়ের সক্ষমতাকে সমন্বয় করে কাজে লাগানোই হবে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসবে। কিছু রুটিন কাজ সহজ ও স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হবে।

এ কারণে কর্মকর্তাদের এআই সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হিউম্যান-এআই সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলেই এর প্রকৃত সফলতা আসবে। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমসাধ্য ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা দ্রুত কাজ শেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সরকারি প্রশাসনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গতি ও দক্ষতা আরও বাড়বে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


এআইয়ে দক্ষ প্রশাসন নাগরিক সেবা হবে আরও দ্রুত ও সহজ: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সরকারি প্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং এর ফলে নাগরিক সেবা দ্রুত, সহজ ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘Strategic Use of AI Tools & Cyber Security for PMO Officials’ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য নয়; প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সহজ করাই মূল উদ্দেশ্য। এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হবে তথ্যভিত্তিক।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, কৃষি, শিল্প ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। মানুষের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এআইয়ের সক্ষমতাকে সমন্বয় করে কাজে লাগানোই হবে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসবে। কিছু রুটিন কাজ সহজ ও স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হবে।

এ কারণে কর্মকর্তাদের এআই সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হিউম্যান-এআই সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলেই এর প্রকৃত সফলতা আসবে। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমসাধ্য ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমিয়ে কর্মকর্তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের সময় ও শ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে কর্মকর্তারা দ্রুত কাজ শেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সরকারি প্রশাসনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গতি ও দক্ষতা আরও বাড়বে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
এআইয়ে দক্ষ প্রশাসন নাগরিক সেবা হবে আরও দ্রুত ও সহজ: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
0:00 / 0:00
1x