Nagorik Somoy News

গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন শিল্প উৎপাদনে ধস; কবে মিলবে স্বস্তি?



গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন শিল্প উৎপাদনে ধস; কবে মিলবে স্বস্তি?
ছবি : সংগৃহীত

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমেছে, বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকট বেড়েছে, সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক—সব খাতেই।

গত সপ্তাহে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বিকল্প জ্বালানিতে রান্না করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়েছেন।

শিল্প খাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার কারখানাগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শিল্পকারখানার পূর্ণ উৎপাদন শুরু হলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন শিল্প উৎপাদনে ধস; কবে মিলবে স্বস্তি?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমেছে, বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকট বেড়েছে, সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক—সব খাতেই।

গত সপ্তাহে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বিকল্প জ্বালানিতে রান্না করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়েছেন।

শিল্প খাতেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার কারখানাগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় সামনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শিল্পকারখানার পূর্ণ উৎপাদন শুরু হলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন শিল্প উৎপাদনে ধস; কবে মিলবে স্বস্তি?
0:00 / 0:00
1x