ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত বৈঠক সম্ভব না হলেও বিএনপি কখনোই তার রাজনৈতিক মিত্রদের ভুলে যায়নি। ভবিষ্যতেও ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের পথে এগোনোর অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
শরিকদের অভিমান দূর করতেই এই আয়োজন
সরকার গঠনের পর দীর্ঘ সময় শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে কিছুটা অসন্তোষ ও অভিমান তৈরি হয়েছিল। সেই দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এ নৈশভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মূল্যায়নের দাবি তুললেন শরিক নেতারা
বৈঠকের শুরুতে শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, রাজপথের আন্দোলনে যেমন একসঙ্গে লড়াই করেছেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান।
এ সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ধরে রাখার ওপর জোর দেন তারা। পাশাপাশি বিএনপির ঘোষিত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং সেই সরকারের পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বানও জানান শরিক নেতারা।
সরকারের সাফল্যের প্রশংসা, দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন নেতারা
আলোচনায় শরিকদের কয়েকজন নেতা সরকারের গত পাঁচ মাসের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস
সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এ কারণেই শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলেও বিএনপি শরিকদের ভুলে যায়নি। আগের মতো আমরা এক আছি, এক থাকব। ঐক্যবদ্ধভাবে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করব।’
এ সময় সরকারপ্রধান জনকল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নে শরিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
উপস্থিত ছিলেন যেসব নেতা
অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকীসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছে প্রতিটি টেবিলে গিয়ে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং শেষে শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন সরকারপ্রধান।
বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি জোটের নেতাদের ভূমিকা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত বৈঠক সম্ভব না হলেও বিএনপি কখনোই তার রাজনৈতিক মিত্রদের ভুলে যায়নি। ভবিষ্যতেও ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের পথে এগোনোর অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
শরিকদের অভিমান দূর করতেই এই আয়োজন
সরকার গঠনের পর দীর্ঘ সময় শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে কিছুটা অসন্তোষ ও অভিমান তৈরি হয়েছিল। সেই দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এ নৈশভোজ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মূল্যায়নের দাবি তুললেন শরিক নেতারা
বৈঠকের শুরুতে শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, রাজপথের আন্দোলনে যেমন একসঙ্গে লড়াই করেছেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান।
এ সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ধরে রাখার ওপর জোর দেন তারা। পাশাপাশি বিএনপির ঘোষিত ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং সেই সরকারের পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বানও জানান শরিক নেতারা।
সরকারের সাফল্যের প্রশংসা, দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন নেতারা
আলোচনায় শরিকদের কয়েকজন নেতা সরকারের গত পাঁচ মাসের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস
সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এ কারণেই শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলেও বিএনপি শরিকদের ভুলে যায়নি। আগের মতো আমরা এক আছি, এক থাকব। ঐক্যবদ্ধভাবে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করব।’
এ সময় সরকারপ্রধান জনকল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নে শরিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
উপস্থিত ছিলেন যেসব নেতা
অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকীসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছে প্রতিটি টেবিলে গিয়ে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং শেষে শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন সরকারপ্রধান।
বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি জোটের নেতাদের ভূমিকা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন