জয়দেবপুরে খালের পানিতে ভাসমান সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে খণ্ডিত-অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় একাই বসবাস করতেন এবং একটি স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
পিবিআই সূত্রের ভাষ্যমতে, ২২ বছর বয়সী মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলির বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিয়ে ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে মিশনের মনে ডলির ওপর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে উঠে আসে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি প্রেমিক মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সে সময় সেখানে মিশনের মা বানু আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর কৌশল অবলম্বন করে ডলিকে ঘুম ও অ্যালার্জির ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়।
শ্বাসরোধ, দেহ দ্বিখণ্ডিত ও খালের পানিতে ফেলে দেওয়া
ডলি অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মিশন প্রথমে লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুমের জন্য সুটকেসে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। পুরো মরদেহ সুটকেসে না আঁটায় বটি দা দিয়ে কোমর থেকে কেটে দ্বিখণ্ডিত করা হয়।
মরদেহের এক অংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে সাথে নিয়ে লাশবাহী সুটকেস ও বস্তাটি প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এবং পরবর্তীতে ভবানীপুর এলাকার একটি খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর খালে ভাসমান সুটকেস ও বস্তা দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পিবিআই প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।
অভিযানে মূল অভিযুক্ত মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপ, ডলির মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল জয়দেবপুর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেছেন।
একটি সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিরোধ কীভাবে এমন নৃশংস অপরাধে রূপ নিতে পারে—ডলির করুণ পরিণতি সেই প্রশ্নই রেখে গেল। স্বজনদের দাবি, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জয়দেবপুরে খালের পানিতে ভাসমান সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে খণ্ডিত-অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় একাই বসবাস করতেন এবং একটি স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
পিবিআই সূত্রের ভাষ্যমতে, ২২ বছর বয়সী মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলির বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিয়ে ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে মিশনের মনে ডলির ওপর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে উঠে আসে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি প্রেমিক মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সে সময় সেখানে মিশনের মা বানু আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর কৌশল অবলম্বন করে ডলিকে ঘুম ও অ্যালার্জির ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়।
শ্বাসরোধ, দেহ দ্বিখণ্ডিত ও খালের পানিতে ফেলে দেওয়া
ডলি অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে মিশন প্রথমে লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুমের জন্য সুটকেসে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। পুরো মরদেহ সুটকেসে না আঁটায় বটি দা দিয়ে কোমর থেকে কেটে দ্বিখণ্ডিত করা হয়।
মরদেহের এক অংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে সাথে নিয়ে লাশবাহী সুটকেস ও বস্তাটি প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এবং পরবর্তীতে ভবানীপুর এলাকার একটি খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর খালে ভাসমান সুটকেস ও বস্তা দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পিবিআই প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।
অভিযানে মূল অভিযুক্ত মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপ, ডলির মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল জয়দেবপুর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেছেন।
একটি সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিরোধ কীভাবে এমন নৃশংস অপরাধে রূপ নিতে পারে—ডলির করুণ পরিণতি সেই প্রশ্নই রেখে গেল। স্বজনদের দাবি, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন