Nagorik Somoy News

বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধ‌ বিধবা মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ



বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধ‌ বিধবা মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ
ছবি : নাগরিক সময়

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন এলাকায় বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবা অসহায় নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবুল নামের এক ব্যক্তি, তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী ও পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী জসিমের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবুলের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার বিধবা মাকে বাবুলের স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী টেনেহিঁচড়ে কাদার মধ্যে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জসিম আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তিনি তার মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় নুরুল হক, মোস্তফা, ইসমাইল, রুহুল আমিন, আমির, মাসুদ ও ফারুকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন নারীও ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। এতে বিধবা মা ও তার ছেলে উভয়েই আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জসিম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় এর আগেও ২০২২ সালে মামলা করা হয়েছিল। মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে তারা বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জসিমের। তার দাবি, কয়েকদিন আগে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। কী কারণে স্বাক্ষর করতে হবে, তা তিনি বুঝতে না পারায় স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানান।

জসিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তাকে সকালে থানায় আসতে বলা হয় এবং বিকেলে দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় বসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে সকালে তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জসিম বলেন, “আমি একজন অসহায় মানুষের সন্তান। আমার মাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। আমি মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। জমির কাগজে কেন স্বাক্ষর করতে হবে, সেটা না বুঝে আমি স্বাক্ষর করতে চাইনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একজন বিধবা নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে চলমান বিরোধের ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধ‌ বিধবা মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন এলাকায় বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বিধবা অসহায় নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবুল নামের এক ব্যক্তি, তার স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী ও পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী জসিমের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবুলের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার বিধবা মাকে বাবুলের স্ত্রীসহ কয়েকজন নারী টেনেহিঁচড়ে কাদার মধ্যে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জসিম আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তিনি তার মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় নুরুল হক, মোস্তফা, ইসমাইল, রুহুল আমিন, আমির, মাসুদ ও ফারুকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন নারীও ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন। এতে বিধবা মা ও তার ছেলে উভয়েই আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জসিম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় এর আগেও ২০২২ সালে মামলা করা হয়েছিল। মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে তারা বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জসিমের। তার দাবি, কয়েকদিন আগে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। কী কারণে স্বাক্ষর করতে হবে, তা তিনি বুঝতে না পারায় স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানান।

জসিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তাকে সকালে থানায় আসতে বলা হয় এবং বিকেলে দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় বসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে সকালে তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জসিম বলেন, “আমি একজন অসহায় মানুষের সন্তান। আমার মাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। আমি মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। জমির কাগজে কেন স্বাক্ষর করতে হবে, সেটা না বুঝে আমি স্বাক্ষর করতে চাইনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একজন বিধবা নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে চলমান বিরোধের ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বন্দোবস্ত জমি নিয়ে বিরোধ‌ বিধবা মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x