নওগাঁয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রিপশনে অন্তর্ভুক্তি এবং অযোগ্য সহকারী দিয়ে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র লেখার এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। শহরের কাজীর মোড়ে অবস্থিত ‘হলিপ্যাথ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব’-এ প্রতি শুক্রবার চেম্বার করা ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অনিয়ম ও চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়াই বাজারজাত করা হচ্ছে ‘ছোলে সিএফ-৩এল’ (Chole CF-3L) নামক একটি ইনজেকশন/ভিটামিন ডি-৩ পণ্য। এমনকি ওষুধটির গায়ের মূল্য কোনো অনুমোদিত লেবেল ছাড়াই সাদা কাগজে হাতে লিখে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর প্রেসক্রিপশনে এই অবৈধ পণ্যটিসহ ‘জিক্যাপ’ (Cap. Zecap) ও ‘ভোলিজেল ম্যাক্স’ নামের সন্দেহজনক হারবাল ওষুধ লিখে দিচ্ছেন উক্ত চিকিৎসক।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সময় ডাক্তারের পাশে বসে সরাসরি ব্যবস্থাপত্র লিখছেন মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে এইচএসসি পাস দাবি করা এই সহকারী শুধু ওষুধ লেখেনই না, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসককে ওষুধের নাম মনে করিয়ে দেন এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে তা যোগ করেন। জানা গেছে, মাহফুজ নিজেই ওইসব অনুমোদনহীন ওষুধের বাজারজাতকরণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী সুনিতা রাণী প্রামানিক জানান, ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসার জন্য ৮০০ টাকা ভিজিট ও একাধিক পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে ছোলে সিএফ-৩এল সেবন করতে দেওয়া হয়। দুধের সঙ্গে ওষুধটি খাওয়ার পর মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক, বমি এবং তীব্র অসুস্থতায় দুই দিন ঘুমাতে পারেননি তিনি। একইভাবে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা না বুঝে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নামে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ উপাদান সেবন করছেন।
অনুমোদনহীন ওষুধের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান চরম দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, "এসব ওষুধ বৈধ না অবৈধ, তা আমার দেখার বিষয় নয়। অবৈধ ওষুধও আমি লিখতে পারব।" অন্যদিকে সহকারী মাহফুজ প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, ডাক্তার ছাড়া অন্য কেউ প্রেসক্রিপশন লিখতে পারবে না—এমন কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার অনুসন্ধানের সময় ওষুধ কোম্পানির নওগাঁ জেলা সমিতির প্রতিনিধি পরিচয়ে শাহানুর নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করে হুমকিও প্রদান করেন
নওগাঁ জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক রিতা রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "ছোলে সিএফ-৩এল" নামের কোনো পণ্যের ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন নেই। সাদা কাগজে মূল্য লিখে কিংবা এনওসি নম্বর ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা পুরোপুরি অবৈধ।
বিষয়টি নিয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা যাবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রিপশনে অন্তর্ভুক্তি এবং অযোগ্য সহকারী দিয়ে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র লেখার এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। শহরের কাজীর মোড়ে অবস্থিত ‘হলিপ্যাথ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব’-এ প্রতি শুক্রবার চেম্বার করা ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অনিয়ম ও চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়াই বাজারজাত করা হচ্ছে ‘ছোলে সিএফ-৩এল’ (Chole CF-3L) নামক একটি ইনজেকশন/ভিটামিন ডি-৩ পণ্য। এমনকি ওষুধটির গায়ের মূল্য কোনো অনুমোদিত লেবেল ছাড়াই সাদা কাগজে হাতে লিখে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর প্রেসক্রিপশনে এই অবৈধ পণ্যটিসহ ‘জিক্যাপ’ (Cap. Zecap) ও ‘ভোলিজেল ম্যাক্স’ নামের সন্দেহজনক হারবাল ওষুধ লিখে দিচ্ছেন উক্ত চিকিৎসক।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সময় ডাক্তারের পাশে বসে সরাসরি ব্যবস্থাপত্র লিখছেন মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে এইচএসসি পাস দাবি করা এই সহকারী শুধু ওষুধ লেখেনই না, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসককে ওষুধের নাম মনে করিয়ে দেন এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে তা যোগ করেন। জানা গেছে, মাহফুজ নিজেই ওইসব অনুমোদনহীন ওষুধের বাজারজাতকরণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী সুনিতা রাণী প্রামানিক জানান, ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসার জন্য ৮০০ টাকা ভিজিট ও একাধিক পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে ছোলে সিএফ-৩এল সেবন করতে দেওয়া হয়। দুধের সঙ্গে ওষুধটি খাওয়ার পর মারাত্মক গ্যাস্ট্রিক, বমি এবং তীব্র অসুস্থতায় দুই দিন ঘুমাতে পারেননি তিনি। একইভাবে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা না বুঝে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নামে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ উপাদান সেবন করছেন।
অনুমোদনহীন ওষুধের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান চরম দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, "এসব ওষুধ বৈধ না অবৈধ, তা আমার দেখার বিষয় নয়। অবৈধ ওষুধও আমি লিখতে পারব।" অন্যদিকে সহকারী মাহফুজ প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, ডাক্তার ছাড়া অন্য কেউ প্রেসক্রিপশন লিখতে পারবে না—এমন কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার অনুসন্ধানের সময় ওষুধ কোম্পানির নওগাঁ জেলা সমিতির প্রতিনিধি পরিচয়ে শাহানুর নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করে হুমকিও প্রদান করেন
নওগাঁ জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক রিতা রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "ছোলে সিএফ-৩এল" নামের কোনো পণ্যের ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন নেই। সাদা কাগজে মূল্য লিখে কিংবা এনওসি নম্বর ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা পুরোপুরি অবৈধ।
বিষয়টি নিয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা যাবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন