পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। এ মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কনিকা রায় গত ১২ জুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এক রাতে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে প্রবেশ করেন। তারা তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা ছিনিয়ে নিয়ে নষ্ট করে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে তার মুখে আঘাত করলে একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে তাকে চেপে ধরে যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় কুলসুমের স্বামী দারগালী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নগদ টাকা ও বাদাম নিয়ে যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কুলসুম ও তার স্বামীকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের কারণে তার ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
কুলসুমের স্বামী দারগালী জানান, হামলাকারীদের মধ্যে তার মামাতো ভাই, প্রথম স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করেই তারা তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। এ মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কনিকা রায় গত ১২ জুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে এক রাতে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে প্রবেশ করেন। তারা তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা ছিনিয়ে নিয়ে নষ্ট করে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে তার মুখে আঘাত করলে একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে তাকে চেপে ধরে যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় কুলসুমের স্বামী দারগালী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নগদ টাকা ও বাদাম নিয়ে যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কুলসুম ও তার স্বামীকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের কারণে তার ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
কুলসুমের স্বামী দারগালী জানান, হামলাকারীদের মধ্যে তার মামাতো ভাই, প্রথম স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করেই তারা তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন