টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া টাকা। এদিকে বোরকা পরা এক নারীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকা থেকে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ডাকাতি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অনুসরণ করছিল। ওই অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী বাসটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই নারীর দেওয়া সংকেতের পর পাহাড় থেকে নেমে আসে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতি থামায়। পরে চারজন ডাকাত বাসে উঠে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে দুই প্রতিনিধিকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পুরো অভিযান শেষ করে ডাকাত দল পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, বাসে থাকা তিন বিকাশ প্রতিনিধির কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোসেনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আল আরমানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। অপর প্রতিনিধি আবদুল করিমের কাছে থাকা ২৫ লাখ টাকা অক্ষত ছিল।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডাকাতরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা টাকার তথ্য জানত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে বাসের চালক, সহকারী কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বোরকা পরা ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা উদ্ধার ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের পাশাপাশি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া টাকা। এদিকে বোরকা পরা এক নারীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকা থেকে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ডাকাতি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অনুসরণ করছিল। ওই অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী বাসটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই নারীর দেওয়া সংকেতের পর পাহাড় থেকে নেমে আসে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসটির গতি থামায়। পরে চারজন ডাকাত বাসে উঠে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে দুই প্রতিনিধিকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পুরো অভিযান শেষ করে ডাকাত দল পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, বাসে থাকা তিন বিকাশ প্রতিনিধির কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোসেনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আল আরমানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। অপর প্রতিনিধি আবদুল করিমের কাছে থাকা ২৫ লাখ টাকা অক্ষত ছিল।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ডাকাতরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা টাকার তথ্য জানত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে বাসের চালক, সহকারী কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বোরকা পরা ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা উদ্ধার ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের পাশাপাশি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন