যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের তুলনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাবে। এর আগে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের।
নতুন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের বিরোধিতার কারণে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও প্রেসিডেন্টের হাতে বিভিন্ন নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে।
আলজাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল। এসব পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় আরোপ করা বিস্তৃত শুল্ক বাতিল করে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন অন্য আইনের অধীনে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়। পৃথক আইনের আওতায় আরোপিত শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং এর মেয়াদ ১৫০ দিন পর্যন্ত সীমিত। মেয়াদ বাড়াতে কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, শুল্কনীতির বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর পড়ে। আমদানিকারকেরা পণ্যের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বেড়ে যেতে পারে।
কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় বা নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আইনগত ও রাজনৈতিক বাধা মোকাবিলা করতে হবে।
শুল্ক নিয়ে আদালতে চলমান বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরত দিতে হবে কি না, দিলে কী পরিমাণ ফেরত দিতে হবে—এসব বিষয়ও আইনি বিতর্কের অংশ।
কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিষয়ে দুই দলের মধ্যে কিছু নীতিগত মিল থাকতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিতে দূরবর্তী প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করা।
অন্যদিকে, ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর আওতায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ অনুমোদিত স্থানে রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য কোম্পানিগুলোর ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে উন্নত প্রযুক্তির চিপের অপব্যবহার ঠেকানো।
সব মিলিয়ে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শুল্ক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে দুই দলের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের তুলনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাবে। এর আগে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের।
নতুন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের বিরোধিতার কারণে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও প্রেসিডেন্টের হাতে বিভিন্ন নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে।
আলজাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল। এসব পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় আরোপ করা বিস্তৃত শুল্ক বাতিল করে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন অন্য আইনের অধীনে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়। পৃথক আইনের আওতায় আরোপিত শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং এর মেয়াদ ১৫০ দিন পর্যন্ত সীমিত। মেয়াদ বাড়াতে কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, শুল্কনীতির বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর পড়ে। আমদানিকারকেরা পণ্যের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বেড়ে যেতে পারে।
কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় বা নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আইনগত ও রাজনৈতিক বাধা মোকাবিলা করতে হবে।
শুল্ক নিয়ে আদালতে চলমান বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরত দিতে হবে কি না, দিলে কী পরিমাণ ফেরত দিতে হবে—এসব বিষয়ও আইনি বিতর্কের অংশ।
কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিষয়ে দুই দলের মধ্যে কিছু নীতিগত মিল থাকতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিতে দূরবর্তী প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করা।
অন্যদিকে, ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর আওতায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ অনুমোদিত স্থানে রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য কোম্পানিগুলোর ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে উন্নত প্রযুক্তির চিপের অপব্যবহার ঠেকানো।
সব মিলিয়ে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শুল্ক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে দুই দলের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন