কারামুক্তির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খান তাঁদের দমাতে পারেননি, এখন ডিবি-পুলিশ কীভাবে তাঁদের ঠেকাবে?
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কারামুক্তির পর জামায়াত আমিরের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন আখতারুজ্জামান।
নিজের গ্রেপ্তারের আগের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আখতারুজ্জামান দাবি করেন, ডিবির সদস্যরা তাঁর বাসায় গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে তাঁরা ঘরে প্রবেশ করে তাঁর অফিসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি দেখতে পান। ছবিটি দেখে কর্মকর্তারা তাঁকে বিএনপি ছেড়ে আসার কারণ জানতে চান বলে দাবি করেন তিনি।
আখতারুজ্জামানের ভাষ্য, ডিবি কর্মকর্তারা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি বিএনপির বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও কেন দল ছেড়েছেন। তারেক রহমান তাঁকে ভালোভাবে চিনতেন বলেও কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন বলে জানান তিনি।
জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া গ্রেপ্তারের কারণ হতে পারে কি না, সেটি তিনি জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, জামায়াতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য বা বক্তব্য থাকার কারণেই কর্মকর্তারা এ ধরনের প্রশ্ন করেছিলেন।
আখতারুজ্জামান জানান, পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে বলেন এবং গ্রেপ্তার করতে চাইলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা জানান।
পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কর্মকর্তার সামনেও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
আখতারুজ্জামান আরও জানান, মাগরিবের আজানের সময় নামাজ পড়তে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেন। এ সময় তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করে পরিস্থিতি জানান। আমির তাঁকে আশ্বস্ত করেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে হাতকড়া পরিয়ে অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে নেওয়ার কথা বলেন আখতারুজ্জামান। একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে তিনি গাড়িতে উঠতে সম্মত হন। তবে গাড়িতে কোথায় বসবেন, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয় বলেও জানান তিনি।
তাঁর দাবি, প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় রাখা হয়।
আখতারুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তবে তাঁকে কেন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেন তাঁর চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঠিক কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্বের ধরন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন প্রশ্ন করবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যের শেষ দিকে আখতারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে পরিচালিত হয়, তার নেতৃত্ব কীভাবে কাজ করে এবং দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?
তিনি এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের কাছে প্রশ্ন রাখেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
কারামুক্তির পর তাঁর এ বক্তব্যে গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি জামায়াতে যোগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
তবে আখতারুজ্জামানের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা ডিবি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
কারামুক্তির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খান তাঁদের দমাতে পারেননি, এখন ডিবি-পুলিশ কীভাবে তাঁদের ঠেকাবে?
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কারামুক্তির পর জামায়াত আমিরের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন আখতারুজ্জামান।
নিজের গ্রেপ্তারের আগের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আখতারুজ্জামান দাবি করেন, ডিবির সদস্যরা তাঁর বাসায় গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে তাঁরা ঘরে প্রবেশ করে তাঁর অফিসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি দেখতে পান। ছবিটি দেখে কর্মকর্তারা তাঁকে বিএনপি ছেড়ে আসার কারণ জানতে চান বলে দাবি করেন তিনি।
আখতারুজ্জামানের ভাষ্য, ডিবি কর্মকর্তারা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি বিএনপির বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও কেন দল ছেড়েছেন। তারেক রহমান তাঁকে ভালোভাবে চিনতেন বলেও কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন বলে জানান তিনি।
জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া গ্রেপ্তারের কারণ হতে পারে কি না, সেটি তিনি জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, জামায়াতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য বা বক্তব্য থাকার কারণেই কর্মকর্তারা এ ধরনের প্রশ্ন করেছিলেন।
আখতারুজ্জামান জানান, পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে বলেন এবং গ্রেপ্তার করতে চাইলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা জানান।
পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কর্মকর্তার সামনেও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
আখতারুজ্জামান আরও জানান, মাগরিবের আজানের সময় নামাজ পড়তে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বাসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেন। এ সময় তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করে পরিস্থিতি জানান। আমির তাঁকে আশ্বস্ত করেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে হাতকড়া পরিয়ে অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে নেওয়ার কথা বলেন আখতারুজ্জামান। একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে তিনি গাড়িতে উঠতে সম্মত হন। তবে গাড়িতে কোথায় বসবেন, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয় বলেও জানান তিনি।
তাঁর দাবি, প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় রাখা হয়।
আখতারুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তবে তাঁকে কেন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেন তাঁর চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঠিক কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্বের ধরন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন প্রশ্ন করবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যের শেষ দিকে আখতারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে পরিচালিত হয়, তার নেতৃত্ব কীভাবে কাজ করে এবং দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?
তিনি এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের কাছে প্রশ্ন রাখেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
কারামুক্তির পর তাঁর এ বক্তব্যে গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি জামায়াতে যোগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
তবে আখতারুজ্জামানের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা ডিবি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন