Nagorik Somoy News

রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে



রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে
আজিজুল মালুম


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে প্রতারণা, জমি দখল এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আজিজুল মালুমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল মালুম দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির জমি নিয়ে বিরোধ এবং জমি কেনাবেচার অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কয়েকটি জমি দখল ও হস্তান্তরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রতিবেদকের হাতে নেই।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শিমুলিয়া মালুম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্ব পাশে এবং আজাহার মালুমের বাড়ির দক্ষিণ সংলগ্ন প্রায় ১১ শতাংশ জমি লেহাজউদ্দিনের ওয়ারিশ আফাজউদ্দিন ও ফাইজউদ্দিনের কাছ থেকে নিজের নামে বায়না করেন আজিজুল মালুম। পরে ওই জমিতে নিজের মোবাইল নম্বরসংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে জমিটি দিনাজপুরের বাসিন্দা এবং ঢাকা হাইকোর্ট ও জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদ কিনেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মাধ্যমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে আজিজুল মালুমের পরিচয় হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এরপর থেকে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বেড়েছে। রিজভীর সঙ্গে ছবি ও সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ছবি বা যোগাযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা যায় না।

শিমুলিয়া গ্রামের আলিমউদ্দিন, হামিদউল্লাহ, মন্টু ও আতা গংসহ কয়েকটি পরিবারের জমি নিয়ে আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমির মূল্য পরিশোধ না করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি দখল করা হয়েছে এবং কিছু জমি পরবর্তী সময়ে আবাসন প্রকল্পের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাঞ্জুর বাড়ির পূর্ব পাশে জাকি নামের এক ব্যক্তির বাড়ি-সংক্রান্ত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও দখলের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং দখলসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে ছবি তুলে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছিলেন আজিজুল মালুম। বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি প্রকাশ করে একইভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ।

তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, মামলাগুলোর নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মামলা থাকা বা গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশের বক্তব্য ও মামলার তথ্য যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আজিজুল মালুমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির দলিল, বায়নাপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট মামলা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে প্রতারণা, জমি দখল এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আজিজুল মালুমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল মালুম দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির জমি নিয়ে বিরোধ এবং জমি কেনাবেচার অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কয়েকটি জমি দখল ও হস্তান্তরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রতিবেদকের হাতে নেই।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শিমুলিয়া মালুম বাড়ি জামে মসজিদের পূর্ব পাশে এবং আজাহার মালুমের বাড়ির দক্ষিণ সংলগ্ন প্রায় ১১ শতাংশ জমি লেহাজউদ্দিনের ওয়ারিশ আফাজউদ্দিন ও ফাইজউদ্দিনের কাছ থেকে নিজের নামে বায়না করেন আজিজুল মালুম। পরে ওই জমিতে নিজের মোবাইল নম্বরসংবলিত সাইনবোর্ড লাগানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে জমিটি দিনাজপুরের বাসিন্দা এবং ঢাকা হাইকোর্ট ও জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বুলবুল আহমেদ কিনেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মাধ্যমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে আজিজুল মালুমের পরিচয় হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এরপর থেকে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বেড়েছে। রিজভীর সঙ্গে ছবি ও সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ছবি বা যোগাযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা যায় না।

শিমুলিয়া গ্রামের আলিমউদ্দিন, হামিদউল্লাহ, মন্টু ও আতা গংসহ কয়েকটি পরিবারের জমি নিয়ে আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমির মূল্য পরিশোধ না করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি দখল করা হয়েছে এবং কিছু জমি পরবর্তী সময়ে আবাসন প্রকল্পের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাঞ্জুর বাড়ির পূর্ব পাশে জাকি নামের এক ব্যক্তির বাড়ি-সংক্রান্ত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও দখলের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং দখলসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে ছবি তুলে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছিলেন আজিজুল মালুম। বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি প্রকাশ করে একইভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ।

তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, মামলাগুলোর নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মামলা থাকা বা গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশের বক্তব্য ও মামলার তথ্য যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আজিজুল মালুমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির দলিল, বায়নাপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট মামলা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা যেতে পারে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আজিজুল মালুমের বিরুদ্ধে
0:00 / 0:00
1x