Nagorik Somoy News

কাঁচপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় আলোচনা



কাঁচপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় আলোচনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মান্নান এবং তাঁর ভাতিজা মাসুম আহমেদের নাম উঠে এসেছে। এরই মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুম আহমেদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাইদুল, মনির ও মগবুল নামে তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা ফুটপাতের দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাসুম আহমেদের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া কাঁচপুর এলাকার কয়েকটি বাসাবাড়িতে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ-সংক্রান্ত ঘটনায় মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও চলছে। কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রুমির সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য মান্নানের। তিনি হাজী সেলিম হক রুমির বোনজামাই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মান্নান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মাসুম আহমেদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি নিশ্চিত না করে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়।

কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড ও ফুটপাত এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা আদায়ের কারণে তাঁদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীরা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মান্নান ও মাসুম আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


কাঁচপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় আলোচনা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মান্নান এবং তাঁর ভাতিজা মাসুম আহমেদের নাম উঠে এসেছে। এরই মধ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুম আহমেদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাইদুল, মনির ও মগবুল নামে তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা ফুটপাতের দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাসুম আহমেদের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া কাঁচপুর এলাকার কয়েকটি বাসাবাড়িতে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ-সংক্রান্ত ঘটনায় মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও চলছে। কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রুমির সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য মান্নানের। তিনি হাজী সেলিম হক রুমির বোনজামাই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মান্নান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মাসুম আহমেদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি নিশ্চিত না করে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও উচিত নয়।

কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড ও ফুটপাত এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা আদায়ের কারণে তাঁদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীরা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মান্নান ও মাসুম আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কাঁচপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় আলোচনা
0:00 / 0:00
1x