বাগেরহাট জেলা কারাগারে প্রাতরাশ গ্রহণের সময় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। খাবার গলায় আটকে চাঁন মিয়া ফকির (৪৪) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে কারাগারের অভ্যন্তরে খাবার খাওয়ার সময় এ আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চাঁন মিয়া ফকির বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি মোরেলগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাগেরহাট জেলা কারাগারে ‘হাজতি নম্বর ৪২৪১/২৬’ হিসেবে বন্দি ছিলেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে সকালে খাবার খাচ্ছিলেন চাঁন মিয়া। খাবার চিবিয়ে গেলার সময় অসাবধানতাবশত তা তাঁর শ্বাসনালী বা খাদ্যনালীতে গিয়ে আটকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন এবং ঢলে পড়েন।
ঘটনাটি দেখা মাত্রই দায়িত্বরত কারারক্ষীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, “সকালে খাবার খাওয়ার সময় ওই হাজতির গলায় খাবার আটকে যায়। বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই কারারক্ষীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর বিষয়টি উর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।”
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, “কারাগার থেকে এক অসুস্থ হাজতিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে জরুরি বিভাগে আনার আগেই হয়তো তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি চলছে।”
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত নিয়মকানুন ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
বাগেরহাট জেলা কারাগারে প্রাতরাশ গ্রহণের সময় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। খাবার গলায় আটকে চাঁন মিয়া ফকির (৪৪) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে কারাগারের অভ্যন্তরে খাবার খাওয়ার সময় এ আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চাঁন মিয়া ফকির বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি মোরেলগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাগেরহাট জেলা কারাগারে ‘হাজতি নম্বর ৪২৪১/২৬’ হিসেবে বন্দি ছিলেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে সকালে খাবার খাচ্ছিলেন চাঁন মিয়া। খাবার চিবিয়ে গেলার সময় অসাবধানতাবশত তা তাঁর শ্বাসনালী বা খাদ্যনালীতে গিয়ে আটকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন এবং ঢলে পড়েন।
ঘটনাটি দেখা মাত্রই দায়িত্বরত কারারক্ষীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, “সকালে খাবার খাওয়ার সময় ওই হাজতির গলায় খাবার আটকে যায়। বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই কারারক্ষীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর বিষয়টি উর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।”
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, “কারাগার থেকে এক অসুস্থ হাজতিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে জরুরি বিভাগে আনার আগেই হয়তো তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি চলছে।”
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত নিয়মকানুন ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন