Nagorik Somoy News

বিআইডব্লিউটি এর ইজারাদারদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ হুশিয়ারি



বিআইডব্লিউটি এর ইজারাদারদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ হুশিয়ারি
ছবি : নাগরিক সময়

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিআইডব্লিউটিএ-এর আওতাধীন নদীপথে ইজারাদারদের অনিয়ম, অবৈধ চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় নৌ-শ্রমিক ও স্টোন ক্রাশার মিল মালিকরা। অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ এবং নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​‘জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি’ এবং ‘নৌ-শ্রমিক সমিতি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার শত শত ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিক অংশ নেন।

​সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সাচনাবাজার টু লালপুর-গজারিয়া নদীপথে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত টোল চার্ট অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট পাথরে ৫০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুতে ২৫ পয়সা টোল আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি ও জিয়াউর রহমানের নির্দেশে তাদের সশস্ত্র লোকজন সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রতি ঘনফুট পাথরে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুতে ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। শুধু তাই নয়, নদীতে চানপুর, লালপুর ও লক্ষ্মীপুর নামক স্থানে চলন্ত নৌকা আটকে তারা দু'বারে মোট ৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করছে।

​বক্তারা বলেন, নির্ধারিত টোল কেন্দ্র ছাড়া ভাসমান অবস্থায় নদীতে নৌকা আটকে জিম্মি করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্গো ও বাল্কহেড শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদ প্রদান ছাড়াই চাঁদা তুলে নিচ্ছে ওই চাঁদাবাজ চক্রটি। এই অবৈধ চাঁদাবাজির কারণে সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

​মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লোকমান হোসেন, রহমগীর, নবী নুর, নৌ-শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, করিম হোসেন কবীর, ওমর ফারুক, জুয়েল, শাহজালাল ও আল আমিন প্রমুখ।

​সমাবেশ থেকে নৌপথে এই চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

​এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি দাবি করেন, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনেই টোল আদায় করছেন এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

​এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক জানান, "সাচনা টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদীপথে টোল আদায়ের বিষয়ে পূর্বে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত টোল আদায় করে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

Image

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বিআইডব্লিউটি এর ইজারাদারদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ হুশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিআইডব্লিউটিএ-এর আওতাধীন নদীপথে ইজারাদারদের অনিয়ম, অবৈধ চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় নৌ-শ্রমিক ও স্টোন ক্রাশার মিল মালিকরা। অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ এবং নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​‘জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি’ এবং ‘নৌ-শ্রমিক সমিতি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার শত শত ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিক অংশ নেন।

​সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সাচনাবাজার টু লালপুর-গজারিয়া নদীপথে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত টোল চার্ট অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট পাথরে ৫০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুতে ২৫ পয়সা টোল আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি ও জিয়াউর রহমানের নির্দেশে তাদের সশস্ত্র লোকজন সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রতি ঘনফুট পাথরে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বালুতে ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। শুধু তাই নয়, নদীতে চানপুর, লালপুর ও লক্ষ্মীপুর নামক স্থানে চলন্ত নৌকা আটকে তারা দু'বারে মোট ৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করছে।

​বক্তারা বলেন, নির্ধারিত টোল কেন্দ্র ছাড়া ভাসমান অবস্থায় নদীতে নৌকা আটকে জিম্মি করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্গো ও বাল্কহেড শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদ প্রদান ছাড়াই চাঁদা তুলে নিচ্ছে ওই চাঁদাবাজ চক্রটি। এই অবৈধ চাঁদাবাজির কারণে সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

​মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লোকমান হোসেন, রহমগীর, নবী নুর, নৌ-শ্রমিক রফিকুল ইসলাম, করিম হোসেন কবীর, ওমর ফারুক, জুয়েল, শাহজালাল ও আল আমিন প্রমুখ।

​সমাবেশ থেকে নৌপথে এই চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

​এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি দাবি করেন, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনেই টোল আদায় করছেন এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

​এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক জানান, "সাচনা টু লালপুর গজারিয়া বিআইডব্লিউটিএ নদীপথে টোল আদায়ের বিষয়ে পূর্বে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত টোল আদায় করে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিআইডব্লিউটি এর ইজারাদারদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিরিক্ত টোল বন্ধের দাবিতে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ হুশিয়ারি
0:00 / 0:00
1x