Nagorik Somoy News

আট বছর পর স্বজনের কাছে ফিরলেন জসিম সন্ধান মিলল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়



আট বছর পর স্বজনের কাছে ফিরলেন জসিম সন্ধান মিলল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়
ছবি : নাগরিক সময়

আট বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী এলাকার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তাঁর সন্ধান পেয়েছে পরিবার। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বাংলাবান্ধায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা এলাকায় জসিমের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর পরিবারের তিন সদস্য। কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে স্বজনরা তাঁকে সামনে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

জসিম উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ সালের দিকে জসিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালের দিকে বালুখালী এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ আট বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর সন্ধান করলেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জসিমের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জামি জানান, ভাইকে এত বছর পর আবার ফিরে পাবেন—এমন আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে ‘HopeNest BD’ নামের একটি পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে জসিমকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ভিডিও দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। এরপর কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে জসিমের সন্ধান পাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রংপুরের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী জয়নাল আবেদীন রাজিব। তিনি ‘হোপনেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন পরিচালনা করেন। সম্প্রতি বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় জসিমকে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

রাজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জসিম নিজের নাম ছাড়া তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। শুধু তাঁর বাড়ি বালুখালী—এমন একটি তথ্য জানা সম্ভব হয়। পরে তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা জসিমকে শনাক্ত করেন। পরে তাঁর ছোট ভাই মিজানুর রহমান সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এভাবেই দীর্ঘ আট বছর পর দেশের এক প্রান্ত কক্সবাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে আরেক প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় খুঁজে পান তাঁর স্বজনরা।

প্রায় ছয় বছর ধরে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জয়নাল আবেদীন রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন মানুষকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুভূতি অত্যন্ত আনন্দের। জসিমের সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন তাঁদের জন্যও আবেগঘন একটি মুহূর্ত। তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দীর্ঘ আট বছরের বিচ্ছেদের পর বাংলাবান্ধায় এই পুনর্মিলন শুধু একটি পরিবারের স্বজন ফিরে পাওয়ার ঘটনা নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মানবিক উদ্যোগ কীভাবে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষের পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান এনে দিতে পারে, তারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল ঘটনাটি।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


আট বছর পর স্বজনের কাছে ফিরলেন জসিম সন্ধান মিলল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আট বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী এলাকার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তাঁর সন্ধান পেয়েছে পরিবার। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বাংলাবান্ধায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা এলাকায় জসিমের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর পরিবারের তিন সদস্য। কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে স্বজনরা তাঁকে সামনে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

জসিম উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ সালের দিকে জসিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালের দিকে বালুখালী এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘ আট বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর সন্ধান করলেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জসিমের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জামি জানান, ভাইকে এত বছর পর আবার ফিরে পাবেন—এমন আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে ‘HopeNest BD’ নামের একটি পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে জসিমকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ভিডিও দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। এরপর কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে জসিমের সন্ধান পাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রংপুরের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী জয়নাল আবেদীন রাজিব। তিনি ‘হোপনেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন পরিচালনা করেন। সম্প্রতি বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় জসিমকে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

রাজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জসিম নিজের নাম ছাড়া তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। শুধু তাঁর বাড়ি বালুখালী—এমন একটি তথ্য জানা সম্ভব হয়। পরে তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা জসিমকে শনাক্ত করেন। পরে তাঁর ছোট ভাই মিজানুর রহমান সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এভাবেই দীর্ঘ আট বছর পর দেশের এক প্রান্ত কক্সবাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে আরেক প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় খুঁজে পান তাঁর স্বজনরা।

প্রায় ছয় বছর ধরে মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জয়নাল আবেদীন রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন মানুষকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুভূতি অত্যন্ত আনন্দের। জসিমের সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন তাঁদের জন্যও আবেগঘন একটি মুহূর্ত। তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দীর্ঘ আট বছরের বিচ্ছেদের পর বাংলাবান্ধায় এই পুনর্মিলন শুধু একটি পরিবারের স্বজন ফিরে পাওয়ার ঘটনা নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মানবিক উদ্যোগ কীভাবে হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষের পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান এনে দিতে পারে, তারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল ঘটনাটি।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
আট বছর পর স্বজনের কাছে ফিরলেন জসিম সন্ধান মিলল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়
0:00 / 0:00
1x