Nagorik Somoy News

ভুয়া সনদের অভিযোগে এমপিও সুবিধা গ্রহণ ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি



ভুয়া সনদের অভিযোগে এমপিও সুবিধা গ্রহণ ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
ছবি : নাগরিক সময়

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসায় ভুয়া সনদ ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ময়েন উদ্দিন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, ময়েন উদ্দিন মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ২০০০ সালের ৫ অক্টোবর উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী পদে যোগদান করেন বলে মাদ্রাসার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় তথ্য চাওয়া হলে মাদ্রাসার সুপার এনামুল হক তথ্য দিতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে।

মাদ্রাসা থেকে ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়েন উদ্দিনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সরবরাহ করা বিভিন্ন নথি যাচাই করে অভিযোগকারীরা জন্মতারিখ, স্বাক্ষরসহ এমপিও নথি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকার দাবি করেছেন।

এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসা থেকে পাঠানো ১২৩৪০০-০৯/২৬ নম্বর স্মারকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে ভর্তি ও ফলাফল রেজিস্টার যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই রেজিস্টার যাচাই করে ১৯৯৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ‘ময়েন উদ্দিন, পিতা আজিম উদ্দিন’ নামে কোনো শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।

রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জয়না‌ল আবেদীন জানান, তাদের মাদ্রাসা থেকে ময়েন উদ্দিনের নামে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ জানান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে ৯৫৪ নম্বর স্মারকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), জেলা প্রশাসক এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার এনামুল জানান, রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সভা হয়েছে এবং ময়েন উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত ময়েন উদ্দিন দাবি করেন, তাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ৪১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, মাদ্রাসার সুপার এনামুল ও তৎকালীন কমিটির সভাপতি ওই অর্থ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগের সময় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি অর্থ গ্রহণের বিষয়টি যাচাই করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়রা আরও বলেন, যদি তদন্তে ভুয়া সনদ বা জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ভুয়া সনদের অভিযোগে এমপিও সুবিধা গ্রহণ ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসায় ভুয়া সনদ ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্যের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ময়েন উদ্দিন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, ময়েন উদ্দিন মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ২০০০ সালের ৫ অক্টোবর উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী পদে যোগদান করেন বলে মাদ্রাসার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় তথ্য চাওয়া হলে মাদ্রাসার সুপার এনামুল হক তথ্য দিতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে।

মাদ্রাসা থেকে ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়েন উদ্দিনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সরবরাহ করা বিভিন্ন নথি যাচাই করে অভিযোগকারীরা জন্মতারিখ, স্বাক্ষরসহ এমপিও নথি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকার দাবি করেছেন।

এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসা থেকে পাঠানো ১২৩৪০০-০৯/২৬ নম্বর স্মারকে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে ভর্তি ও ফলাফল রেজিস্টার যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই রেজিস্টার যাচাই করে ১৯৯৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ‘ময়েন উদ্দিন, পিতা আজিম উদ্দিন’ নামে কোনো শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।

রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জয়না‌ল আবেদীন জানান, তাদের মাদ্রাসা থেকে ময়েন উদ্দিনের নামে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ জানান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে ৯৫৪ নম্বর স্মারকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), জেলা প্রশাসক এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার এনামুল জানান, রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সভা হয়েছে এবং ময়েন উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত ময়েন উদ্দিন দাবি করেন, তাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ৪১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, মাদ্রাসার সুপার এনামুল ও তৎকালীন কমিটির সভাপতি ওই অর্থ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগের সময় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারি অর্থ গ্রহণের বিষয়টি যাচাই করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়রা আরও বলেন, যদি তদন্তে ভুয়া সনদ বা জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ভুয়া সনদের অভিযোগে এমপিও সুবিধা গ্রহণ ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
0:00 / 0:00
1x