নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগম (৭৩)-কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার ক্লুলেস রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আশিকুর রহমান।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বিকেলে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজ পড়ছিলেন জাহানারা বেগম। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাধবদী থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই মাধবদীর স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের বাসিন্দা:
১. হৃদয় মিয়া (২৭) — পিতা: মৃত হারুন মিয়া (গ্রেপ্তার: ৯ আগস্ট)
২. কাদির মিয়া (২৭) — পিতা: ছায়েদ (গ্রেপ্তার: ৩০ জুলাই)
৩. আবু মিয়া (২৯) — পিতা: আকমান মিয়া (গ্রেপ্তার: ১৬ সেপ্টেম্বর)
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় ও কাদিরের বিরুদ্ধে পূর্বের পৃথক অপরাধের মামলা রয়েছে।
যেভাবে ঘটেছিল লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড
আসামি আবু মিয়ার আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের গলার সোনার চেইন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা জাহানারা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। বৃদ্ধা তখন বারান্দায় নামাজে মশগুল ছিলেন। চেইন ছিনতাইয়ের একপর্যায়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসে এবং বৃদ্ধা চোরদের চিনে ফেলেন ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধরা পড়ার ভয়ে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় ও পিঠে এলোপাতাড়ি কোপ মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং গলার সোনার চেইনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগম (৭৩)-কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার ক্লুলেস রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আশিকুর রহমান।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই বিকেলে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজ পড়ছিলেন জাহানারা বেগম। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাধবদী থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই মাধবদীর স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের বাসিন্দা:
১. হৃদয় মিয়া (২৭) — পিতা: মৃত হারুন মিয়া (গ্রেপ্তার: ৯ আগস্ট)
২. কাদির মিয়া (২৭) — পিতা: ছায়েদ (গ্রেপ্তার: ৩০ জুলাই)
৩. আবু মিয়া (২৯) — পিতা: আকমান মিয়া (গ্রেপ্তার: ১৬ সেপ্টেম্বর)
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় ও কাদিরের বিরুদ্ধে পূর্বের পৃথক অপরাধের মামলা রয়েছে।
যেভাবে ঘটেছিল লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড
আসামি আবু মিয়ার আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের গলার সোনার চেইন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা জাহানারা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। বৃদ্ধা তখন বারান্দায় নামাজে মশগুল ছিলেন। চেইন ছিনতাইয়ের একপর্যায়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসে এবং বৃদ্ধা চোরদের চিনে ফেলেন ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধরা পড়ার ভয়ে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় ও পিঠে এলোপাতাড়ি কোপ মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং গলার সোনার চেইনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন