Nagorik Somoy News

তিন দিন নিখোঁজের পর বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে মিলল ৮ বছরের রাফির মরদেহ



তিন দিন নিখোঁজের পর বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে মিলল ৮ বছরের রাফির মরদেহ

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল মাত্র ৮ বছরের শিশু রাফি। স্বজনদের আশা ছিল, হয়তো কোনোভাবে ফিরে আসবে তাদের ছোট্ট সন্তান। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাফির নিথর দেহ।

রাফির মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো—তা নিয়ে এখনো তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, রাফির বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর দুজনেই আলাদা সংসার শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই নানি-নানা ও মামার কাছে বড় হয়েছে রাফি। তার মা-বাবা দুজনেই গার্মেন্টসে কাজ করতেন এবং কাজের কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। পরবর্তীতে রাফি দাদাবাড়িতেও থাকত।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের মানুষই রাফিকে ভালোবাসতেন। তাই শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে হলো, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তাঁর মামাসহ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় রাফির নানি ও গ্রামের কয়েকজন পুলিশি গাড়ি থেকে তাঁর মামাকে নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁরা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, রাফির মামা অসুস্থ থাকায় হঠাৎ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁরা ভয় পেয়ে এমনটি করেছিলেন।

রাফির মায়ের দাবি, দাদাবাড়ির সবাই রাফিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। অন্যদিকে রাফির বাবার ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই তাঁর ছেলে নানি ও মামার কাছে বড় হয়েছে এবং তাঁরাও রাফিকে ভালোবাসতেন। ফলে তাঁরা এমন কোনো ঘটনা ঘটাতে পারেন—এমনটি তিনি বিশ্বাস করেন না।

এখন সামনে একের পর এক প্রশ্ন—রাফির মৃত্যুর পেছনে আসলে কী ঘটেছিল? সে কীভাবে বাড়ির পেছনের ডোবা-নালায় গেল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে?

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, আলামত, ময়নাতদন্তসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হতে পারে।

একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন এভাবে থেমে যাওয়া পুরো পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। এখন স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—রাফির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্‌ঘাটিত হোক।

যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি অন্য কোনো কারণ থাকে, সেটিও সত্য ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক।

রাফির পরিবারের অশ্রুসিক্ত প্রশ্নের উত্তর একটাই—সত্য উদ্‌ঘাটন।

একটি শিশুর মৃত্যুর রহস্য যেন অন্ধকারে চাপা না পড়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


তিন দিন নিখোঁজের পর বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে মিলল ৮ বছরের রাফির মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল মাত্র ৮ বছরের শিশু রাফি। স্বজনদের আশা ছিল, হয়তো কোনোভাবে ফিরে আসবে তাদের ছোট্ট সন্তান। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাফির নিথর দেহ।

রাফির মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো—তা নিয়ে এখনো তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, রাফির বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর দুজনেই আলাদা সংসার শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই নানি-নানা ও মামার কাছে বড় হয়েছে রাফি। তার মা-বাবা দুজনেই গার্মেন্টসে কাজ করতেন এবং কাজের কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। পরবর্তীতে রাফি দাদাবাড়িতেও থাকত।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের মানুষই রাফিকে ভালোবাসতেন। তাই শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে হলো, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাফি নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তাঁর মামাসহ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় রাফির নানি ও গ্রামের কয়েকজন পুলিশি গাড়ি থেকে তাঁর মামাকে নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁরা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, রাফির মামা অসুস্থ থাকায় হঠাৎ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁরা ভয় পেয়ে এমনটি করেছিলেন।

রাফির মায়ের দাবি, দাদাবাড়ির সবাই রাফিকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। অন্যদিকে রাফির বাবার ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই তাঁর ছেলে নানি ও মামার কাছে বড় হয়েছে এবং তাঁরাও রাফিকে ভালোবাসতেন। ফলে তাঁরা এমন কোনো ঘটনা ঘটাতে পারেন—এমনটি তিনি বিশ্বাস করেন না।

এখন সামনে একের পর এক প্রশ্ন—রাফির মৃত্যুর পেছনে আসলে কী ঘটেছিল? সে কীভাবে বাড়ির পেছনের ডোবা-নালায় গেল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে?

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, আলামত, ময়নাতদন্তসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হতে পারে।

একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন এভাবে থেমে যাওয়া পুরো পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। এখন স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—রাফির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্‌ঘাটিত হোক।

যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি অন্য কোনো কারণ থাকে, সেটিও সত্য ও নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক।

রাফির পরিবারের অশ্রুসিক্ত প্রশ্নের উত্তর একটাই—সত্য উদ্‌ঘাটন।

একটি শিশুর মৃত্যুর রহস্য যেন অন্ধকারে চাপা না পড়ে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তিন দিন নিখোঁজের পর বাড়ির পেছনের ডোবা-নালা থেকে মিলল ৮ বছরের রাফির মরদেহ
0:00 / 0:00
1x