Nagorik Somoy News

আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে



আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে
ছবি : নাগরিক সময়

গোপালগঞ্জে আদালতের নির্দেশে ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে একটি ১০ তলা ভবন ক্রোক করে এর সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরের গোবরা নিলার মাঠ এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। 

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত কার্যালয়-১-এ দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট আদালতের পৃথক আদেশের ভিত্তিতে ভবনটির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়। 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদক গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার এবং উপসহকারী পরিচালক আফছার উদ্দিনকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ৩০টি আবাসিক ইউনিট, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, রাউটারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। 

দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও নবনিযুক্ত রিসিভার আফছার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রোক করে রিসিভারের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভবনের সার্বিক দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ, রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। 

মালিকপক্ষের দাবি, নোটিশের বিষয়ে আগে জানতেন না

ভবন মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন এবং রেমিট্যান্সের অর্থে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, ভবনটি নির্মাণে কোনো অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হয়নি এবং আদালতের ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিলেন না।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন এবং এর পরদিনই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মালিকপক্ষের এই বক্তব্যের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভবনটির মালিকানা নিয়ে শেখ মো. ইকরাম হালিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর শ্যালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে; এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জে আদালতের নির্দেশে ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে একটি ১০ তলা ভবন ক্রোক করে এর সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরের গোবরা নিলার মাঠ এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। 

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত কার্যালয়-১-এ দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট আদালতের পৃথক আদেশের ভিত্তিতে ভবনটির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়। 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদক গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার এবং উপসহকারী পরিচালক আফছার উদ্দিনকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ৩০টি আবাসিক ইউনিট, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, রাউটারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। 

দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও নবনিযুক্ত রিসিভার আফছার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রোক করে রিসিভারের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভবনের সার্বিক দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ, রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। 

মালিকপক্ষের দাবি, নোটিশের বিষয়ে আগে জানতেন না

ভবন মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন এবং রেমিট্যান্সের অর্থে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, ভবনটি নির্মাণে কোনো অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হয়নি এবং আদালতের ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিলেন না।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন এবং এর পরদিনই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মালিকপক্ষের এই বক্তব্যের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ভবনটির মালিকানা নিয়ে শেখ মো. ইকরাম হালিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর শ্যালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে; এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে
0:00 / 0:00
1x