নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও মাটির পরিবর্তে বয়লারের ছাই দিয়ে মাঠ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ইব্রাহীম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। অথচ মাঠের অধিকাংশ জায়গা বয়লারের ছাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অল্প কিছু জায়গায় বিট বালু ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থের অর্ধেকও ব্যয় করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে নিম্নমানের ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বয়লারের ছাই ব্যবহার করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান এস এম ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “আমি প্রকল্পের টাকায় ৮ ট্রাক বালু ফেলেছি। বিনা পয়সায় বয়লারের ছাই এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছি।”
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আখেড়া এলাকায় মেসার্স শিউলী রাইস মিল নামে একটি চালকল রয়েছে। ওই মিলের মালিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই চালকল থেকেই বয়লারের ছাই এনে বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের পাশেও ছাইয়ের স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠের বড় একটি অংশ ছাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। খোলা ট্রাক্টরে করে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ছাই পরিবহন করা হচ্ছে। এতে বাতাসে ছাই উড়ে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে। সড়কের দুই পাশেও ছড়িয়ে পড়ছে ছাই। বিদ্যালয়ের মাঠে ছাই ফেলার পর সেখান থেকেও বাতাসে ছাই উড়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানান, বয়লারের উড়ন্ত ছাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সড়কে চলাচলের সময় ছাই চোখে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে বয়লারের ছাই ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ছাই সরিয়ে সেখানে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হলেও মাটির পরিবর্তে বয়লারের ছাই দিয়ে মাঠ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ইব্রাহীম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। অথচ মাঠের অধিকাংশ জায়গা বয়লারের ছাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অল্প কিছু জায়গায় বিট বালু ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থের অর্ধেকও ব্যয় করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে নিম্নমানের ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বয়লারের ছাই ব্যবহার করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান এস এম ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “আমি প্রকল্পের টাকায় ৮ ট্রাক বালু ফেলেছি। বিনা পয়সায় বয়লারের ছাই এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছি।”
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আখেড়া এলাকায় মেসার্স শিউলী রাইস মিল নামে একটি চালকল রয়েছে। ওই মিলের মালিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই চালকল থেকেই বয়লারের ছাই এনে বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের পাশেও ছাইয়ের স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠের বড় একটি অংশ ছাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। খোলা ট্রাক্টরে করে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে ছাই পরিবহন করা হচ্ছে। এতে বাতাসে ছাই উড়ে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে। সড়কের দুই পাশেও ছড়িয়ে পড়ছে ছাই। বিদ্যালয়ের মাঠে ছাই ফেলার পর সেখান থেকেও বাতাসে ছাই উড়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানান, বয়লারের উড়ন্ত ছাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সড়কে চলাচলের সময় ছাই চোখে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে বয়লারের ছাই ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ছাই সরিয়ে সেখানে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন