বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা প্রতিদিন মানুষের কথা তুলে ধরছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কাজ করে আসছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মফস্বল সাংবাদিকদের বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে একটি জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রচেষ্টাকে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত দাবি সামনে আনা এবং অধিকার আদায়ে সম্মিলিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
বিএমএসএফের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি, কলম বিরতি ও স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করেছে সংগঠনটি।
সাংবাদিক নির্যাতনকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে তুলে ধরাও তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কোনো মফস্বল সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংবাদিকদের সংগঠিত করে প্রতিবাদ জানানোর উদ্যোগ বিএমএসএফের কার্যক্রমে গুরুত্ব পেয়েছে।
সাংবাদিকদের আইনগত নিরাপত্তা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং হয়রানিমূলক মামলার মতো বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার হয়েছেন আহমেদ আবু জাফর। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকদের একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
তবে দীর্ঘদিনের যেকোনো সাংগঠনিক পথচলার মতো বিএমএসএফের কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব, কমিটি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা ভবিষ্যতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
এরপরও মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আনা এবং সম্মিলিতভাবে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার দীর্ঘ প্রচেষ্টার কারণে আহমেদ আবু জাফরের দেড় দশকের পথচলা আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে।
মফস্বল সাংবাদিকদের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, মামলা-মোকদ্দমা ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংবাদিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
মফস্বল সাংবাদিকের শক্তি তাঁর কলমে; আর সেই কলমের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ঐক্য ও পেশাগত সংহতি। সেই ঐক্যের লক্ষ্যে আহমেদ আবু জাফরের দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলা মফস্বল সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা প্রতিদিন মানুষের কথা তুলে ধরছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কাজ করে আসছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মফস্বল সাংবাদিকদের বিচ্ছিন্ন অবস্থান থেকে একটি জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রচেষ্টাকে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত দাবি সামনে আনা এবং অধিকার আদায়ে সম্মিলিত আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
বিএমএসএফের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি, কলম বিরতি ও স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচিও পালন করেছে সংগঠনটি।
সাংবাদিক নির্যাতনকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে তুলে ধরাও তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কোনো মফস্বল সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংবাদিকদের সংগঠিত করে প্রতিবাদ জানানোর উদ্যোগ বিএমএসএফের কার্যক্রমে গুরুত্ব পেয়েছে।
সাংবাদিকদের আইনগত নিরাপত্তা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং হয়রানিমূলক মামলার মতো বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার হয়েছেন আহমেদ আবু জাফর। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকদের একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
তবে দীর্ঘদিনের যেকোনো সাংগঠনিক পথচলার মতো বিএমএসএফের কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব, কমিটি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক সামনে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা ভবিষ্যতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
এরপরও মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে আনা এবং সম্মিলিতভাবে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার দীর্ঘ প্রচেষ্টার কারণে আহমেদ আবু জাফরের দেড় দশকের পথচলা আলাদাভাবে আলোচনার দাবি রাখে।
মফস্বল সাংবাদিকদের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, মামলা-মোকদ্দমা ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংবাদিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
মফস্বল সাংবাদিকের শক্তি তাঁর কলমে; আর সেই কলমের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ঐক্য ও পেশাগত সংহতি। সেই ঐক্যের লক্ষ্যে আহমেদ আবু জাফরের দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলা মফস্বল সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন