Nagorik Somoy News

লোডশেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার চাহিদা ব্যস্ত মহাদেবপুরের কারিগররা



লোডশেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার চাহিদা ব্যস্ত মহাদেবপুরের কারিগররা
ছবি : নাগরিক সময়

তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাকাল মানুষ। এরই মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে আধুনিক বৈদ্যুতিক পাখা থেমে যাচ্ছে, আর তখনই মানুষের ভরসা হয়ে উঠছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালপাখা।

গরমের এই তীব্রতা ও বিদ্যুৎ সংকটকে ঘিরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভালাইন গ্রামের ঘরে ঘরে এখন তালপাখা তৈরির ধুম পড়েছে। নারী-পুরুষের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে নানা আকৃতির তালপাখা। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে পাখা তৈরি ও বাজারজাত করছেন। এতে যেমন মানুষের গরমের কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে, তেমনি কারিগর পরিবারগুলোর ঘরে ফিরছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।

লোডশেডিংয়ে তালপাখাই ভরসা

শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই এখন গরমের তীব্র হাহাকার। দিনের বেলায় প্রখর রোদ আর রাতে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বৈদ্যুতিক পাখা যখন বন্ধ, তখন হাতপাখা দিয়েই বাতাস করে স্বস্তি খুঁজছেন অনেকে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও বিদ্যুৎনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষের কাছে তালপাখা হয়ে উঠেছে তাৎক্ষণিক স্বস্তির মাধ্যম। ফলে কয়েক বছর আগেও যে তালপাখার ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছিল, এবার তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে সেই পাখার চাহিদা আবারও বেড়েছে।

ঘরে ঘরে কর্মব্যস্ততা

মহাদেবপুরের ভালাইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক পরিবার এখন তালপাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ তালপাতা প্রস্তুত করছেন, কেউ পাখার কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ পাখায় বাঁশের হাতল লাগিয়ে দিচ্ছেন শেষ স্পর্শ। নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করায় অল্প সময়েই তৈরি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক পাখা।

স্থানীয় কারিগররা জানান, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালপাখার চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে লোডশেডিং বেশি হলে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। এতে মৌসুমি এই কাজ থেকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরেছে প্রাণ

একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই তালপাখা ছিল নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আধুনিক বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালপাখার কদর অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু বর্তমানের তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট যেন সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে।

ভালাইন গ্রামের পাখা কারিগরদের কাছে তাই এবারের গরম শুধু দুর্ভোগের নয়, কর্মসংস্থান ও বাড়তি আয়েরও সুযোগ এনে দিয়েছে। তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি তালপাখা একদিকে যেমন মানুষের গরমের স্বস্তির সঙ্গী, অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে রাখছে ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

তীব্র গরমে বৈদ্যুতিক পাখা যখন থমকে যায়, তখন ভালাইনের তালপাখাই যেন গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা শীতলতার বার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


লোডশেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার চাহিদা ব্যস্ত মহাদেবপুরের কারিগররা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাকাল মানুষ। এরই মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে আধুনিক বৈদ্যুতিক পাখা থেমে যাচ্ছে, আর তখনই মানুষের ভরসা হয়ে উঠছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালপাখা।

গরমের এই তীব্রতা ও বিদ্যুৎ সংকটকে ঘিরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভালাইন গ্রামের ঘরে ঘরে এখন তালপাখা তৈরির ধুম পড়েছে। নারী-পুরুষের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে নানা আকৃতির তালপাখা। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে পাখা তৈরি ও বাজারজাত করছেন। এতে যেমন মানুষের গরমের কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে, তেমনি কারিগর পরিবারগুলোর ঘরে ফিরছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।

লোডশেডিংয়ে তালপাখাই ভরসা

শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই এখন গরমের তীব্র হাহাকার। দিনের বেলায় প্রখর রোদ আর রাতে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বৈদ্যুতিক পাখা যখন বন্ধ, তখন হাতপাখা দিয়েই বাতাস করে স্বস্তি খুঁজছেন অনেকে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও বিদ্যুৎনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষের কাছে তালপাখা হয়ে উঠেছে তাৎক্ষণিক স্বস্তির মাধ্যম। ফলে কয়েক বছর আগেও যে তালপাখার ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছিল, এবার তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে সেই পাখার চাহিদা আবারও বেড়েছে।

ঘরে ঘরে কর্মব্যস্ততা

মহাদেবপুরের ভালাইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক পরিবার এখন তালপাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ তালপাতা প্রস্তুত করছেন, কেউ পাখার কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ পাখায় বাঁশের হাতল লাগিয়ে দিচ্ছেন শেষ স্পর্শ। নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করায় অল্প সময়েই তৈরি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক পাখা।

স্থানীয় কারিগররা জানান, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালপাখার চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে লোডশেডিং বেশি হলে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। এতে মৌসুমি এই কাজ থেকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরেছে প্রাণ

একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই তালপাখা ছিল নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আধুনিক বৈদ্যুতিক পাখা ও অন্যান্য শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালপাখার কদর অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু বর্তমানের তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট যেন সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে।

ভালাইন গ্রামের পাখা কারিগরদের কাছে তাই এবারের গরম শুধু দুর্ভোগের নয়, কর্মসংস্থান ও বাড়তি আয়েরও সুযোগ এনে দিয়েছে। তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি তালপাখা একদিকে যেমন মানুষের গরমের স্বস্তির সঙ্গী, অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে রাখছে ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

তীব্র গরমে বৈদ্যুতিক পাখা যখন থমকে যায়, তখন ভালাইনের তালপাখাই যেন গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা শীতলতার বার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
লোডশেডিংয়ে বেড়েছে তালপাখার চাহিদা ব্যস্ত মহাদেবপুরের কারিগররা
0:00 / 0:00
1x