Nagorik Somoy News

নিয়ামতপুরে এসএসসি পরীক্ষায় তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি



নিয়ামতপুরে এসএসসি পরীক্ষায় তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
ছবি : নাগরিক সময়

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এবার এসএসসি সমমান পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ, বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে সাতজন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে এসে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। নবম ও দশম শ্রেণি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত। নবম-দশম শ্রেণি এমপিওভুক্ত নয়। তাই ওই দুই শ্রেণিতে কোনো শিক্ষক নেই। তাই কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না।

তিনি বলেন, আমাদের কোন পাকা বিল্ডিং নেই। মাটির ঘর, টিনের শেড। কমন রুম নেই। শিক্ষকদের বসার কোনো পরিবেশ নেই। গ্রীষ্মকালে ঝড়ের সময় ও বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে ক্লাস নিতে অনেক অসুবিধা হয়। এসব কারণে ভালো শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে চায় না। এজন্যই ফলাফল খারাপ হয়েছে।

নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। এরপর ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নবম-দশম শেণিতে ভোকেশনাল শাখা খোলা হয়। তবে শাখাটি এখন পর্যন্ত নন এমপিওভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মজনুর রহমান মন্ডল বলেন, ২০১১ সালে ভোকেশনাল শাখা খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমপিও হয়নি। তাই ভোকেশনাল কোনো শিক্ষকও নেই। কলেজ শাখার শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিতে হয়।

তিনি বলেন, ভোকেশনাল শাখায় সাধারণত কর্মজীবী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তাঁরা ক্লাস করতে আগ্রহী না। তাই তাঁদের ক্লাস করানো যায় না। ভোকেশনাল শাখা এমপিও হলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, এটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়।

মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান জানান, এবারে তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে অনাগ্রহী। শিক্ষক সংকটও রয়েছে। আছে অবকাঠামোগত সমস্যা। এখানকার অভিভাবকেরাও অসচেতন। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী বিভিন্ন উদ্যােগ নেওয়ার পরও আশানুরূপ সাড়া পাইনি।

এবিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, নিয়ামতপুরে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ফাঁকা রয়েছে। তাছাড়া একাডেমিক সুপারভাইজারও নেই। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হয়নি। এতে ফলাফল খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলায় একজন একাডেমিক সুপারভাইজার যোগদান করেছেন। আশা করা যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং বৃদ্ধি করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


নিয়ামতপুরে এসএসসি পরীক্ষায় তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এবার এসএসসি সমমান পরীক্ষায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ, বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে সাতজন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে এসে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। নবম ও দশম শ্রেণি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত। নবম-দশম শ্রেণি এমপিওভুক্ত নয়। তাই ওই দুই শ্রেণিতে কোনো শিক্ষক নেই। তাই কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না।

তিনি বলেন, আমাদের কোন পাকা বিল্ডিং নেই। মাটির ঘর, টিনের শেড। কমন রুম নেই। শিক্ষকদের বসার কোনো পরিবেশ নেই। গ্রীষ্মকালে ঝড়ের সময় ও বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে ক্লাস নিতে অনেক অসুবিধা হয়। এসব কারণে ভালো শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে চায় না। এজন্যই ফলাফল খারাপ হয়েছে।

নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। এরপর ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নবম-দশম শেণিতে ভোকেশনাল শাখা খোলা হয়। তবে শাখাটি এখন পর্যন্ত নন এমপিওভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মজনুর রহমান মন্ডল বলেন, ২০১১ সালে ভোকেশনাল শাখা খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমপিও হয়নি। তাই ভোকেশনাল কোনো শিক্ষকও নেই। কলেজ শাখার শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিতে হয়।

তিনি বলেন, ভোকেশনাল শাখায় সাধারণত কর্মজীবী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তাঁরা ক্লাস করতে আগ্রহী না। তাই তাঁদের ক্লাস করানো যায় না। ভোকেশনাল শাখা এমপিও হলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, এটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়।

মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান জানান, এবারে তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে অনাগ্রহী। শিক্ষক সংকটও রয়েছে। আছে অবকাঠামোগত সমস্যা। এখানকার অভিভাবকেরাও অসচেতন। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী বিভিন্ন উদ্যােগ নেওয়ার পরও আশানুরূপ সাড়া পাইনি।

এবিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, নিয়ামতপুরে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ফাঁকা রয়েছে। তাছাড়া একাডেমিক সুপারভাইজারও নেই। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হয়নি। এতে ফলাফল খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলায় একজন একাডেমিক সুপারভাইজার যোগদান করেছেন। আশা করা যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং বৃদ্ধি করা যাবে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নিয়ামতপুরে এসএসসি পরীক্ষায় তিন প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
0:00 / 0:00
1x