প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই পুনরায় চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন
দিনভর প্রচণ্ড গরমের পর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না মানুষ। ঘরে ফ্যান চলতে না পারায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেককে ঘরের বাইরে, বারান্দায় কিংবা খোলা জায়গায় বসে সময় কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গরমের সময় বিদ্যুৎ মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো, মোবাইল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। পর্যাপ্ত আলো ও গরমের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্ষতির মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎনির্ভর দোকানপাট, ওয়ার্কশপ, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত খরচও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একদিকে গরমে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কাজ সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না।
অসুস্থ ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ। গরমের মধ্যে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক অভিভাবক রাতের বেলায় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনে প্রচণ্ড গরম, রাতে ঘুমানোর সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বিদ্যুৎ কখন থাকবে আর কখন চলে যাবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য—সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।”
দ্রুত সমাধানের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, আত্রাই উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, প্রচণ্ড গরমের সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আত্রাইবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সমস্যা নিরসন করবে। প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে স্বস্তি ফিরবে উপজেলার হাজারো মানুষের জীবনে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই পুনরায় চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন
দিনভর প্রচণ্ড গরমের পর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না মানুষ। ঘরে ফ্যান চলতে না পারায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেককে ঘরের বাইরে, বারান্দায় কিংবা খোলা জায়গায় বসে সময় কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গরমের সময় বিদ্যুৎ মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো, মোবাইল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। পর্যাপ্ত আলো ও গরমের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্ষতির মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎনির্ভর দোকানপাট, ওয়ার্কশপ, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত খরচও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একদিকে গরমে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কাজ সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না।
অসুস্থ ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ। গরমের মধ্যে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক অভিভাবক রাতের বেলায় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনে প্রচণ্ড গরম, রাতে ঘুমানোর সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “বিদ্যুৎ কখন থাকবে আর কখন চলে যাবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য—সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।”
দ্রুত সমাধানের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, আত্রাই উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, প্রচণ্ড গরমের সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আত্রাইবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সমস্যা নিরসন করবে। প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে স্বস্তি ফিরবে উপজেলার হাজারো মানুষের জীবনে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন