নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুঙ্গী বিলের ওপর দিয়ে যাওয়া নিয়ামতপুর-মহাদেবপুর সংযোগ সড়কটি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বিলের পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পুঙ্গী বিলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। দীর্ঘসময় ধরে পানির স্রোত চলতে থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশের মাটি ও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের পাড় ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অংশ ও ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ রয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চালকদের ধীরগতিতে ও অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনগুলো চলাচলের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে সড়কটি ব্যবহার করেন। এছাড়া কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই পুঙ্গী বিলের পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সড়কের ক্ষতি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখন পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা শেষে কোনো কোনো সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক সংস্কার করা হলেও পরবর্তী বর্ষায় আবারও তা নষ্ট হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট বা সংস্কার করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পুঙ্গী বিলের পানি যাতে সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হয়, সে জন্য কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সড়কটির টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় পথচারী বলেন, “বর্ষা এলেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙে যায়, আবার গর্ত তৈরি হয়। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
স্থানীয় যানবাহন চালকরাও জানান, সড়কের খানাখন্দের কারণে যানবাহন চালাতে গিয়ে তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগে, অন্যদিকে যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বর্ষা মৌসুমে সাময়িক মেরামত না করে পুঙ্গী বিলের পানি প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কালভার্ট, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সড়ক উঁচুকরণসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিবছর সড়ক ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং পুঙ্গী বিলের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়ামতপুর-মহাদেবপুরের গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুঙ্গী বিলের ওপর দিয়ে যাওয়া নিয়ামতপুর-মহাদেবপুর সংযোগ সড়কটি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বিলের পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পুঙ্গী বিলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। দীর্ঘসময় ধরে পানির স্রোত চলতে থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশের মাটি ও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের পাড় ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে চলাচলের পথ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অংশ ও ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ রয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চালকদের ধীরগতিতে ও অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনগুলো চলাচলের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে সড়কটি ব্যবহার করেন। এছাড়া কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই পুঙ্গী বিলের পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সড়কের ক্ষতি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখন পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা শেষে কোনো কোনো সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক সংস্কার করা হলেও পরবর্তী বর্ষায় আবারও তা নষ্ট হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট বা সংস্কার করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পুঙ্গী বিলের পানি যাতে সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হয়, সে জন্য কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সড়কটির টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় পথচারী বলেন, “বর্ষা এলেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙে যায়, আবার গর্ত তৈরি হয়। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
স্থানীয় যানবাহন চালকরাও জানান, সড়কের খানাখন্দের কারণে যানবাহন চালাতে গিয়ে তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগে, অন্যদিকে যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বর্ষা মৌসুমে সাময়িক মেরামত না করে পুঙ্গী বিলের পানি প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কালভার্ট, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সড়ক উঁচুকরণসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিবছর সড়ক ভেঙে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং পুঙ্গী বিলের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নিয়ামতপুর-মহাদেবপুরের গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন