Nagorik Somoy News

পোরশার মেদা আয়েশা সিদ্দিকা মাদ্রাসায় দাখিলের ফল বিপর্যয় ২০ জনে পাস মাত্র ১



পোরশার মেদা আয়েশা সিদ্দিকা মাদ্রাসায় দাখিলের ফল বিপর্যয় ২০ জনে পাস মাত্র ১
ছবি : নাগরিক সময়

নওগাঁর পোরশা উপজেলার মেদা হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) আলিম মাদ্রাসার এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ১৯ জন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ শতাংশে।

এমন হতাশাজনক ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাত্র একজনের পাস, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা কার্যক্রম

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মাদ্রাসাটির ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিপরীতে ১৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও হতাশা

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য বছরজুড়ে নিয়মিত পাঠদান ও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন। কিন্তু ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন অকৃতকার্য হওয়ার মতো ফলাফল কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

তারা বলেন, শুধু পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বছরের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করতে হবে। যারা পড়াশোনায় দুর্বল, তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ক্লাস, অতিরিক্ত পাঠদান ও নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা জরুরি।

ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, এবারের ফলাফল কেন এত খারাপ হলো, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা—সব বিষয় গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা দরকার।

তাদের মতে, ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজনের পাসের হার কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল যাতে আর না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা কার্যক্রমে পরিবর্তনের দাবি

স্থানীয়রা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিষয়ভিত্তিক অতিরিক্ত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দ্রুত পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী

এমন ফলাফলের পর মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে ফলাফলের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তাদের দাবি, আগামী দিনে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল, নিয়মিত ও মানসম্মত করা হোক এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


পোরশার মেদা আয়েশা সিদ্দিকা মাদ্রাসায় দাখিলের ফল বিপর্যয় ২০ জনে পাস মাত্র ১

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর পোরশা উপজেলার মেদা হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) আলিম মাদ্রাসার এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় মোট ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ১৯ জন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ শতাংশে।

এমন হতাশাজনক ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাত্র একজনের পাস, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা কার্যক্রম

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মাদ্রাসাটির ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিপরীতে ১৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও হতাশা

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য বছরজুড়ে নিয়মিত পাঠদান ও নিবিড় তদারকি প্রয়োজন। কিন্তু ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন অকৃতকার্য হওয়ার মতো ফলাফল কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

তারা বলেন, শুধু পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বছরের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করতে হবে। যারা পড়াশোনায় দুর্বল, তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ক্লাস, অতিরিক্ত পাঠদান ও নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা জরুরি।

ফলাফলের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, এবারের ফলাফল কেন এত খারাপ হলো, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা—সব বিষয় গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা দরকার।

তাদের মতে, ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজনের পাসের হার কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল যাতে আর না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা কার্যক্রমে পরিবর্তনের দাবি

স্থানীয়রা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিষয়ভিত্তিক অতিরিক্ত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দ্রুত পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী

এমন ফলাফলের পর মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে ফলাফলের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তাদের দাবি, আগামী দিনে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল, নিয়মিত ও মানসম্মত করা হোক এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পোরশার মেদা আয়েশা সিদ্দিকা মাদ্রাসায় দাখিলের ফল বিপর্যয় ২০ জনে পাস মাত্র ১
0:00 / 0:00
1x