নওগাঁর পোরশা উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৪৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১০২ জন। ফলে উপজেলার মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৫২ শতাংশে। আর পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোরশা উপজেলার অধিকাংশ মাদ্রাসার ফলাফলই সন্তোষজনক নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের পাসের হার অত্যন্ত কম, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সেই তুলনায় পোরশা উপজেলার পাসের হার অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের চেয়ে উপজেলার পাসের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন—কেন পোরশার মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার এমন দুরবস্থা? দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এভাবে জাতীয় পর্যায়ের গড় ফলাফলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসাভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, শিক্ষকদের পাঠদানের মান যাচাই, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পোরশার মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পোরশার শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসম্মত পাঠদান ও কার্যকর তদারকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই উদ্যোগ নিলে আগামী দিনে পোরশার মাদ্রাসাগুলোর ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর পোরশা উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৪৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১০২ জন। ফলে উপজেলার মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৫২ শতাংশে। আর পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোরশা উপজেলার অধিকাংশ মাদ্রাসার ফলাফলই সন্তোষজনক নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের পাসের হার অত্যন্ত কম, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সেই তুলনায় পোরশা উপজেলার পাসের হার অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের চেয়ে উপজেলার পাসের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন—কেন পোরশার মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার এমন দুরবস্থা? দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এভাবে জাতীয় পর্যায়ের গড় ফলাফলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসাভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা, শিক্ষকদের পাঠদানের মান যাচাই, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ার জন্য শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পোরশার মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পোরশার শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসম্মত পাঠদান ও কার্যকর তদারকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই উদ্যোগ নিলে আগামী দিনে পোরশার মাদ্রাসাগুলোর ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন