শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত আলী হোসেন মাদবর (৬১) বাদী হয়ে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে আলী হোসেন মাদবরের সঙ্গে তার ভাই আমির হোসেন মাদবরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমির হোসেন মাদবর ও তার ছেলেরা আলী হোসেনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তাকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আলী হোসেনের দাবি, তিনি গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আমির হোসেনের নির্দেশে তার ছেলে সাগর মাদবর ও ফাহিম তাকে বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
বাবাকে মারধরের ঘটনা দেখে মেয়ে সিখা আক্তার (২৫) এগিয়ে গেলে তাকেও টানাহেঁচড়া ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আলী হোসেন। একই সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী লেবু বেগম (৫০)-এর মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই জমি থেকে প্রায় ৩০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যান। এতে তাদের প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আলী হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদেরও ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলী হোসেন ও তার মেয়ে সিখা আক্তার চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে লেবু বেগম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলী হোসেন বলেন, জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে তাদের বাড়িতে ঢুকে তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমি ও বাঁশ কাটার বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি হামলার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত আলী হোসেন মাদবর (৬১) বাদী হয়ে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে আলী হোসেন মাদবরের সঙ্গে তার ভাই আমির হোসেন মাদবরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমির হোসেন মাদবর ও তার ছেলেরা আলী হোসেনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তাকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আলী হোসেনের দাবি, তিনি গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আমির হোসেনের নির্দেশে তার ছেলে সাগর মাদবর ও ফাহিম তাকে বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
বাবাকে মারধরের ঘটনা দেখে মেয়ে সিখা আক্তার (২৫) এগিয়ে গেলে তাকেও টানাহেঁচড়া ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আলী হোসেন। একই সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী লেবু বেগম (৫০)-এর মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওই জমি থেকে প্রায় ৩০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যান। এতে তাদের প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আলী হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদেরও ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলী হোসেন ও তার মেয়ে সিখা আক্তার চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে লেবু বেগম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলী হোসেন বলেন, জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে তাদের বাড়িতে ঢুকে তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমি ও বাঁশ কাটার বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি হামলার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন