Nagorik Somoy News

নামাজ শেষে ফল মিলিয়ে অবাক হানিফ ৪০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখের পুরস্কার



নামাজ শেষে ফল মিলিয়ে অবাক হানিফ ৪০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখের পুরস্কার
ছবি : সংগৃহীত

সংসারে অভাব-অনটন, পারিবারিক সংকট আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ মিয়া। এর মধ্যেই ২০ টাকা করে দুটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন তিনি। মাত্র ৪০ টাকার সেই টিকিট ঘিরেই এখন বদলে যেতে পারে তার পরিবারের ভাগ্যের গল্প।

হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার অবশ্য টিকিট কেনার বিষয়টি তখন মেনে নিতে পারেননি। সংসারের প্রতিটি টাকা যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ৪০ টাকা লটারিতে খরচ করায় স্বামীকে বকাও দিয়েছিলেন তিনি।

তবে কয়েক দিন পর সেই টিকিটের ফল দেখতে গিয়ে ঘটে চমকপ্রদ ঘটনা। নামাজ শেষে স্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে লটারির ফল মিলিয়ে দেখেন হানিফ। একটি টিকিটের নম্বর হুবহু মিলে যায় প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে। আর সেই পুরস্কারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা হানিফ মিয়া (৩১)। তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরির পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করেন। পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।

হানিফ জানান, স্থানীয় বাজারে লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে জানতে পেরে কৌতূহল থেকেই ২০ টাকা মূল্যের দুটি টিকিট কিনেছিলেন। পরে অনলাইনে ফলাফল দেখতে গিয়ে নিজের একটি টিকিটের নম্বরের সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের নম্বর মিলে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে কয়েকবার নম্বর মিলিয়ে দেখেন তিনি।

এরপর টিকিটটি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) কার্যালয়ে যান হানিফ। সেখানে প্রাথমিকভাবে টিকিটটি পরীক্ষা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, আগে তিনি স্বামীকে বলেছিলেন, ৪০ টাকা দিয়ে টিকিট না কিনে ওই টাকা দিয়ে বাজারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনলে ভালো হতো। কিন্তু ফলাফল দেখার পর তিনিও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কয়েকবার নম্বর মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি সত্যি বলে মনে হয়।

পুরস্কারের অর্থ হাতে পেলে কী করবেন—সেটিও ভেবে রেখেছেন হানিফ। তার পরিকল্পনা, একটি নিজস্ব ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করা, হাঁসের খামার বড় করা এবং পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা।

বিপিকেএসের জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজী মো. আলম কবির জানান, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে তাদের কার্যালয়ে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে টিকিটটি সঠিক মনে হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রয়োজন।

তিনি জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হতে পারে।

তাই এখন হানিফের পরিবারের চোখ অপেক্ষায়। ৪০ টাকার দুটি টিকিটের একটি কি সত্যিই তাদের হাতে তুলে দেবে ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার? নাকি নম্বর মেলার এই আনন্দ থেমে যাবে আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ধাপে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


নামাজ শেষে ফল মিলিয়ে অবাক হানিফ ৪০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখের পুরস্কার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সংসারে অভাব-অনটন, পারিবারিক সংকট আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ মিয়া। এর মধ্যেই ২০ টাকা করে দুটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন তিনি। মাত্র ৪০ টাকার সেই টিকিট ঘিরেই এখন বদলে যেতে পারে তার পরিবারের ভাগ্যের গল্প।

হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার অবশ্য টিকিট কেনার বিষয়টি তখন মেনে নিতে পারেননি। সংসারের প্রতিটি টাকা যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ৪০ টাকা লটারিতে খরচ করায় স্বামীকে বকাও দিয়েছিলেন তিনি।

তবে কয়েক দিন পর সেই টিকিটের ফল দেখতে গিয়ে ঘটে চমকপ্রদ ঘটনা। নামাজ শেষে স্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে লটারির ফল মিলিয়ে দেখেন হানিফ। একটি টিকিটের নম্বর হুবহু মিলে যায় প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে। আর সেই পুরস্কারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা হানিফ মিয়া (৩১)। তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরির পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করেন। পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।

হানিফ জানান, স্থানীয় বাজারে লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে জানতে পেরে কৌতূহল থেকেই ২০ টাকা মূল্যের দুটি টিকিট কিনেছিলেন। পরে অনলাইনে ফলাফল দেখতে গিয়ে নিজের একটি টিকিটের নম্বরের সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের নম্বর মিলে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে কয়েকবার নম্বর মিলিয়ে দেখেন তিনি।

এরপর টিকিটটি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) কার্যালয়ে যান হানিফ। সেখানে প্রাথমিকভাবে টিকিটটি পরীক্ষা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, আগে তিনি স্বামীকে বলেছিলেন, ৪০ টাকা দিয়ে টিকিট না কিনে ওই টাকা দিয়ে বাজারের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনলে ভালো হতো। কিন্তু ফলাফল দেখার পর তিনিও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কয়েকবার নম্বর মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি সত্যি বলে মনে হয়।

পুরস্কারের অর্থ হাতে পেলে কী করবেন—সেটিও ভেবে রেখেছেন হানিফ। তার পরিকল্পনা, একটি নিজস্ব ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করা, হাঁসের খামার বড় করা এবং পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা।

বিপিকেএসের জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজী মো. আলম কবির জানান, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে তাদের কার্যালয়ে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে টিকিটটি সঠিক মনে হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রয়োজন।

তিনি জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হতে পারে।

তাই এখন হানিফের পরিবারের চোখ অপেক্ষায়। ৪০ টাকার দুটি টিকিটের একটি কি সত্যিই তাদের হাতে তুলে দেবে ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার? নাকি নম্বর মেলার এই আনন্দ থেমে যাবে আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ধাপে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নামাজ শেষে ফল মিলিয়ে অবাক হানিফ ৪০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখের পুরস্কার
0:00 / 0:00
1x