Nagorik Somoy News

“ওসিকে জানানো হয়েছিল আগেই তবুও হামলা—পার্বতীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”



“ওসিকে জানানো হয়েছিল আগেই তবুও হামলা—পার্বতীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও এক নারী সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে পুলিশ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত, তাহলে হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই বিকেলে সংবাদকর্মী মিরাজ মোস্তফা ও সুইটি সামিনা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য পার্বতীপুর মডেল থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা থানায় না গিয়ে পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেন।

পরে কয়েকজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব থেকেই জিডির আবেদন করার ব্যবস্থা করা হয়। একই সময়ে মিরাজ মোস্তফাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২ থেকে ১৪ জন সংবাদকর্মী তাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার হলদিবাড়ী এলাকার দিকে রওনা হন। সুইটি সামিনা তখন প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রবি নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল হেলমেট পরে সেখানে এসে সুইটি সামিনার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি আহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার আগে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি কয়েকজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকে। তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে পুলিশকে আগেই অবহিত করা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে হামলার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


“ওসিকে জানানো হয়েছিল আগেই তবুও হামলা—পার্বতীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও এক নারী সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে পুলিশ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত, তাহলে হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই বিকেলে সংবাদকর্মী মিরাজ মোস্তফা ও সুইটি সামিনা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য পার্বতীপুর মডেল থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা থানায় না গিয়ে পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেন।

পরে কয়েকজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব থেকেই জিডির আবেদন করার ব্যবস্থা করা হয়। একই সময়ে মিরাজ মোস্তফাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২ থেকে ১৪ জন সংবাদকর্মী তাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার হলদিবাড়ী এলাকার দিকে রওনা হন। সুইটি সামিনা তখন প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রবি নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল হেলমেট পরে সেখানে এসে সুইটি সামিনার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি আহত হন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার আগে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি কয়েকজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকে। তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে পুলিশকে আগেই অবহিত করা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে হামলার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
“ওসিকে জানানো হয়েছিল আগেই তবুও হামলা—পার্বতীপুরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”
0:00 / 0:00
1x