নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া-ইব্রাহিমনগর দাড়ির ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা জরাজীর্ণ ও সরু ব্রিজটি ভেঙে সেখানে একটি প্রশস্ত ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও অতিরিক্ত সরু হওয়ায় এটি এখন জনভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি এতটাই সরু যে, একটি ভ্যান বা ছোট যানবাহন উঠলেই প্রায় পুরো পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিপরীত দিক থেকে অন্য কোনো ভ্যান, সিএনজি কিংবা ছোট যানবাহন এলে দুপাশের যানবাহন আটকে পড়ে। এমনকি অনেক সময় পথচারীদেরও ব্রিজ পার হতে চরম ঝুঁকি নিতে হয়। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিংসাড়া-ইব্রাহিমনগর দাড়ির ওপরের এই ব্রিজটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। ব্রিজটি ব্যবহার করে সিংসাড়া, দমদমা, দীঘা, কাশোপাড়া, শুটকিগাছা, চৌয়ড়বাড়ী, বেওয়া, ভবানীপুর, মির্জাপুর, রসুলপুর, গোন্ডগোহালী, কুশাতলা, ডাঙ্গাপাড়া, বারুইপাড়া, কুদাপাড়া, মরুগ্রাম, ব্রজপুর ও নওদাপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন।
এ পথ দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা সদর নওগাঁ, সীমান্তবর্তী বাগমারা-ভবানীগঞ্জ এবং রাজশাহী শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। ফলে ব্রিজটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রতিদিন স্থানীয় কেজি স্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে এই সরু ব্রিজ পারাপার হয়। এছাড়া মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পরিবহনসহ নানা প্রয়োজনে ব্রিজটি ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির প্রশস্ততা কম হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে দুই পাশে অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আইয়ুব আলী বলেন, “এই জরাজীর্ণ ও সরু ব্রিজের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একটি গাড়ি ব্রিজে উঠলে অপর পাশ দিয়ে আর কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রায়ই যানজট ও ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ করতে দ্রুত সেখানে অন্তত ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি আধুনিক ও প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজুর সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি নিয়ে দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, পুরোনো সরু ব্রিজের স্থলে দ্রুত ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি প্রশস্ত ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হলে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও জরুরি রোগী পরিবহন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘবে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ২০ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া-ইব্রাহিমনগর দাড়ির ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা জরাজীর্ণ ও সরু ব্রিজটি ভেঙে সেখানে একটি প্রশস্ত ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও অতিরিক্ত সরু হওয়ায় এটি এখন জনভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি এতটাই সরু যে, একটি ভ্যান বা ছোট যানবাহন উঠলেই প্রায় পুরো পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিপরীত দিক থেকে অন্য কোনো ভ্যান, সিএনজি কিংবা ছোট যানবাহন এলে দুপাশের যানবাহন আটকে পড়ে। এমনকি অনেক সময় পথচারীদেরও ব্রিজ পার হতে চরম ঝুঁকি নিতে হয়। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিংসাড়া-ইব্রাহিমনগর দাড়ির ওপরের এই ব্রিজটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। ব্রিজটি ব্যবহার করে সিংসাড়া, দমদমা, দীঘা, কাশোপাড়া, শুটকিগাছা, চৌয়ড়বাড়ী, বেওয়া, ভবানীপুর, মির্জাপুর, রসুলপুর, গোন্ডগোহালী, কুশাতলা, ডাঙ্গাপাড়া, বারুইপাড়া, কুদাপাড়া, মরুগ্রাম, ব্রজপুর ও নওদাপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন।
এ পথ দিয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা সদর নওগাঁ, সীমান্তবর্তী বাগমারা-ভবানীগঞ্জ এবং রাজশাহী শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। ফলে ব্রিজটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রতিদিন স্থানীয় কেজি স্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে এই সরু ব্রিজ পারাপার হয়। এছাড়া মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পরিবহনসহ নানা প্রয়োজনে ব্রিজটি ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির প্রশস্ততা কম হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে দুই পাশে অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আইয়ুব আলী বলেন, “এই জরাজীর্ণ ও সরু ব্রিজের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একটি গাড়ি ব্রিজে উঠলে অপর পাশ দিয়ে আর কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রায়ই যানজট ও ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ করতে দ্রুত সেখানে অন্তত ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি আধুনিক ও প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজুর সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি নিয়ে দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, পুরোনো সরু ব্রিজের স্থলে দ্রুত ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি প্রশস্ত ও আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হলে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও জরুরি রোগী পরিবহন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘবে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ২০ গ্রামের সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন