Nagorik Somoy News

অনিয়মের অভিযোগে বালাতৈড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি



অনিয়মের অভিযোগে বালাতৈড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি
ছবি : নাগরিক সময়

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি নথি জালিয়াতি ও বৈধ শিক্ষককে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে তার স্থায়ী বরখাস্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৪ সালের শেষ দিকে ড. মো. আমজাদ হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের কর্মকর্তারা তদন্ত করে একাধিক অনিয়মের বিষয় শনাক্ত করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. এরশাদ আলীর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি টেম্পারিং করে বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগে পাঁচজন শিক্ষককে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক মো. এরশাদ আলীর বেতন-ভাতা ২০১৯ সালের জুন-জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে তিনি ও তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজের বিভিন্ন আয়ের উৎস—জোত জমি, আম ও কাঠের বাগান এবং মার্কেট থেকে প্রাপ্ত অর্থের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব তদন্তে উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং ভুয়া ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে অভিযোগকারীরা আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রভাষক এরশাদ আলীর বেতনের ফাইল পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. আবদুল হাকিমসহ স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তারা অধ্যক্ষের স্থায়ী বরখাস্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বৈধ শিক্ষক মো. এরশাদ আলীর বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


অনিয়মের অভিযোগে বালাতৈড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি নথি জালিয়াতি ও বৈধ শিক্ষককে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে তার স্থায়ী বরখাস্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৪ সালের শেষ দিকে ড. মো. আমজাদ হোসেন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের কর্মকর্তারা তদন্ত করে একাধিক অনিয়মের বিষয় শনাক্ত করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. এরশাদ আলীর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি টেম্পারিং করে বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগে পাঁচজন শিক্ষককে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক মো. এরশাদ আলীর বেতন-ভাতা ২০১৯ সালের জুন-জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে তিনি ও তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজের বিভিন্ন আয়ের উৎস—জোত জমি, আম ও কাঠের বাগান এবং মার্কেট থেকে প্রাপ্ত অর্থের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব তদন্তে উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং ভুয়া ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে অভিযোগকারীরা আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রভাষক এরশাদ আলীর বেতনের ফাইল পাঠানোর নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. আবদুল হাকিমসহ স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তারা অধ্যক্ষের স্থায়ী বরখাস্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বৈধ শিক্ষক মো. এরশাদ আলীর বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ড. মো. আমজাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
অনিয়মের অভিযোগে বালাতৈড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি
0:00 / 0:00
1x