কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ ১০-১২ দিন ধরে বলাৎকারের মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটির সূত্রপাত গত ১২ জুলাই সকালে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ‘তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এ।
সেদিন মাদ্রাসার বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বাইরে গিয়েছিল। মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৫টি শিশু।
বেলা ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ১০ বছরের ওই শিশুটিকে বলাৎকার করে।
শিশুটি চোখ খুললে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মাথায় হাত রেখে নির্লজ্জের মতো বলে— ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ!’
ভয়ে শিশুটি প্রথমে মুখ না খুললেও এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক টানা ১০-১২ দিন ধরে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালিয়ে যায়।
কয়েকদিন পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করলে খবরটি মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এক শিশুকে মারধর করে বিষয়টি গোপন রাখার ভয়ভীতি দেখান অভিযুক্ত শিক্ষক। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে পুরো ঘটনা সামনে চলে আসে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তা আইনের হাত থেকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে ওঠে মাদ্রাসা কমিটি। দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসায় তড়িঘড়ি করে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা মাদ্রাসায় ভিড় জমান।
সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে কক্ষের দরজা বন্ধ করে বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আইন অনুযায়ী এমন স্পর্শকাতর অপরাধের বিচার সালিশে সম্ভব কি না জানতে চাইলে সভাপতি দাবি করেন— “অবশ্যই সালিশ করা যায়!”
সালিশি বৈঠকের সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ ১০-১২ দিন ধরে বলাৎকারের মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটির সূত্রপাত গত ১২ জুলাই সকালে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ‘তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এ।
সেদিন মাদ্রাসার বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বাইরে গিয়েছিল। মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৫টি শিশু।
বেলা ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ১০ বছরের ওই শিশুটিকে বলাৎকার করে।
শিশুটি চোখ খুললে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মাথায় হাত রেখে নির্লজ্জের মতো বলে— ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ!’
ভয়ে শিশুটি প্রথমে মুখ না খুললেও এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক টানা ১০-১২ দিন ধরে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালিয়ে যায়।
কয়েকদিন পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করলে খবরটি মাদ্রাসায় ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এক শিশুকে মারধর করে বিষয়টি গোপন রাখার ভয়ভীতি দেখান অভিযুক্ত শিক্ষক। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে পুরো ঘটনা সামনে চলে আসে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তা আইনের হাত থেকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে ওঠে মাদ্রাসা কমিটি। দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসায় তড়িঘড়ি করে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা মাদ্রাসায় ভিড় জমান।
সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে কক্ষের দরজা বন্ধ করে বৈঠক চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আইন অনুযায়ী এমন স্পর্শকাতর অপরাধের বিচার সালিশে সম্ভব কি না জানতে চাইলে সভাপতি দাবি করেন— “অবশ্যই সালিশ করা যায়!”
সালিশি বৈঠকের সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন