স্পেনের লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস আবারও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে ৬৪-এ উন্নীত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে তিনি ফুটবলের জন্য ‘বিপজ্জনক’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেন, বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে একটি মাত্র টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ব ফুটবলের ক্যালেন্ডার ও জাতীয় লিগগুলোর কাঠামো বদলে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বিশ্বকাপে দল বাড়ানো মানে বিভিন্ন দেশের লিগ ও ক্লাবগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুটবলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের একটি প্রতিযোগিতার জন্য এমন একটি শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের লাখো মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে আছে। জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে জাতীয় লিগগুলোর সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ফিফার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেবাসের অভিযোগ, ফিফা সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ফুটবলের প্রকৃত স্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, বিশ্বকাপের সম্প্রসারণও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন লা লিগা সভাপতি। তার ভাষায়, বর্তমান ফিফা সভাপতির সময় শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ফিফার বর্তমান কাঠামোয় ইনফ্যান্তিনোর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন থাকায় তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসছে না।
ফিফার নির্বাচন প্রক্রিয়াকেও অস্বচ্ছ বলে মন্তব্য করেন তেবাস। তার দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগেই পরাজয়ের আশঙ্কা করেন, ফলে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয় না। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ভারসাম্য হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু নির্বাচন নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তেবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল এবং এটি ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তেবাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে এমন বিরতির কোনো প্রয়োজন ছিল না। তার মতে, এসব বিরতি মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এখন ২০৩০ আসরে দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার আলোচনা চলছে। তবে তেবাস মনে করেন, এই ধরনের সম্প্রসারণ বিশ্ব ফুটবলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং জাতীয় লিগগুলোর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
স্পেনের লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস আবারও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে ৬৪-এ উন্নীত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনাকে তিনি ফুটবলের জন্য ‘বিপজ্জনক’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ইতালির ক্রীড়া দৈনিক লা গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেবাস বলেন, বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। তবে একটি মাত্র টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ব ফুটবলের ক্যালেন্ডার ও জাতীয় লিগগুলোর কাঠামো বদলে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বিশ্বকাপে দল বাড়ানো মানে বিভিন্ন দেশের লিগ ও ক্লাবগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুটবলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের একটি প্রতিযোগিতার জন্য এমন একটি শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের লাখো মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে আছে। জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে জাতীয় লিগগুলোর সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ফিফার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেবাসের অভিযোগ, ফিফা সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ফুটবলের প্রকৃত স্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, বিশ্বকাপের সম্প্রসারণও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন লা লিগা সভাপতি। তার ভাষায়, বর্তমান ফিফা সভাপতির সময় শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ফিফার বর্তমান কাঠামোয় ইনফ্যান্তিনোর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন থাকায় তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসছে না।
ফিফার নির্বাচন প্রক্রিয়াকেও অস্বচ্ছ বলে মন্তব্য করেন তেবাস। তার দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগেই পরাজয়ের আশঙ্কা করেন, ফলে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয় না। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ভারসাম্য হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু নির্বাচন নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তেবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল এবং এটি ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তেবাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে এমন বিরতির কোনো প্রয়োজন ছিল না। তার মতে, এসব বিরতি মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এখন ২০৩০ আসরে দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার আলোচনা চলছে। তবে তেবাস মনে করেন, এই ধরনের সম্প্রসারণ বিশ্ব ফুটবলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং জাতীয় লিগগুলোর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।

সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন