Nagorik Somoy News

বন্যার পানি কমায় স্বস্তি ফিরছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলে ঘরে ফিরছেন দুর্গতরা



বন্যার পানি কমায় স্বস্তি ফিরছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলে ঘরে ফিরছেন দুর্গতরা
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট দুর্ভোগ কাটিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ আবারও নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও কমছে মানুষের সংখ্যা।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। বর্তমানে পাঁচ জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন মাত্র ২ হাজার ২৯৪ জন মানুষ। খাগড়াছড়ির সব আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যে খালি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেখানেও দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রামু, পেকুয়া, চকরিয়া, বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা, লামা ও রুমার মতো বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনে অনেক রাস্তা ও কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্যও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গত এলাকার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বন্যার পানি কমায় স্বস্তি ফিরছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলে ঘরে ফিরছেন দুর্গতরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট দুর্ভোগ কাটিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষ আবারও নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও কমছে মানুষের সংখ্যা।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন্যা উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয়ক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। বর্তমানে পাঁচ জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন মাত্র ২ হাজার ২৯৪ জন মানুষ। খাগড়াছড়ির সব আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যে খালি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেখানেও দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রামু, পেকুয়া, চকরিয়া, বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা, লামা ও রুমার মতো বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনে অনেক রাস্তা ও কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্যও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গত এলাকার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বন্যার পানি কমায় স্বস্তি ফিরছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলে ঘরে ফিরছেন দুর্গতরা
0:00 / 0:00
1x