বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
Nagorik Somoy News

হরমুজ প্রণালির মালিক কে আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে



হরমুজ প্রণালির মালিক কে আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে
ডোনাল্ড ট্রাম্প

আল জাজিরা 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন—আসলে হরমুজ প্রণালির ওপর কার অধিকার রয়েছে?

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক সার্বভৌমত্ব নেই। প্রণালিটির দুই পাশে রয়েছে ইরান ও ওমান। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌম অধিকার ভোগ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট অধিকারও বিদ্যমান।

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার। ফলে ওই এলাকায় ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না করলেও এর সমুদ্র চলাচলসংক্রান্ত অনেক বিধান আন্তর্জাতিক রীতিনীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তরাষ্ট্রেও যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধটিকে সমর্থন করেছেন।

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলেও বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি হওয়ায় বিষয়টি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাকে তিনি দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া। তাঁর মতে, ট্রাম্প একজন ‘শোম্যান’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া ঠিক নয়।

তবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার কোনো উদ্যোগকে আইনগত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন মাসগ্রেভ। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরানের কাছে পরাজয় মেনে নিয়ে এখনই পিছু হটার অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র।

Image

আপনার মতামত লিখুন

Nagorik Somoy News

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


হরমুজ প্রণালির মালিক কে আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আল জাজিরা 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন—আসলে হরমুজ প্রণালির ওপর কার অধিকার রয়েছে?

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক সার্বভৌমত্ব নেই। প্রণালিটির দুই পাশে রয়েছে ইরান ও ওমান। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় দেশগুলো উপকূল থেকে সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমার ওপর সার্বভৌম অধিকার ভোগ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট অধিকারও বিদ্যমান।

হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার। ফলে ওই এলাকায় ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না করলেও এর সমুদ্র চলাচলসংক্রান্ত অনেক বিধান আন্তর্জাতিক রীতিনীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তরাষ্ট্রেও যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধটিকে সমর্থন করেছেন।

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলেও বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি হওয়ায় বিষয়টি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এখন পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাকে তিনি দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া। তাঁর মতে, ট্রাম্প একজন ‘শোম্যান’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য সবসময় আক্ষরিক অর্থে নেওয়া ঠিক নয়।

তবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার কোনো উদ্যোগকে আইনগত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন মাসগ্রেভ। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরানের কাছে পরাজয় মেনে নিয়ে এখনই পিছু হটার অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র।


Nagorik Somoy News

সম্পাদক : মাসুদ রানা


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হরমুজ প্রণালির মালিক কে আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে
0:00 / 0:00
1x