ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর বিমানের ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইটটি ক্রুজিং উচ্চতায় থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে উচ্চতা হারায়। এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
ঘটনার পর দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ক্যাপ্টেনের প্রথম পরীক্ষায় গাঁজা ব্যবহারের সম্ভাবনা পাওয়ার পর দ্বিতীয় পরীক্ষাও করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পাশাপাশি অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরে উঠে যায়।
এরপর স্টল সতর্কসংকেত পাওয়ার পর কো-পাইলট বিমানের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে দেন। ফলে বিমান দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। আকস্মিক গতিবিধিতে ককপিটের কিছু জিনিসপত্র এবং দুই পাইলটও আসন থেকে ওপরে উঠে যান।
পরে ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ফিরে সিটবেল্ট বাঁধেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি সর্বোচ্চ নিরবচ্ছিন্ন শক্তি প্রয়োগ করলেও ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
তবে তদন্তকারীরা শুধু পাইলটের ভূমিকা নিয়েই থেমে নেই। বিমানের কারিগরি ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৌশলসংক্রান্ত নথিতে হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়া ও এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, রক্ষণাবেক্ষণ নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির জন্য পাইলটের আচরণ নাকি বিমানের কারিগরি ত্রুটি—কোনটি কতটা দায়ী, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই এর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও এনডিটিভি
.png)
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর বিমানের ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইটটি ক্রুজিং উচ্চতায় থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে উচ্চতা হারায়। এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
ঘটনার পর দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ক্যাপ্টেনের প্রথম পরীক্ষায় গাঁজা ব্যবহারের সম্ভাবনা পাওয়ার পর দ্বিতীয় পরীক্ষাও করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে বিমানের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পাশাপাশি অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের সামনের অংশ ওপরে উঠে যায়।
এরপর স্টল সতর্কসংকেত পাওয়ার পর কো-পাইলট বিমানের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে দেন। ফলে বিমান দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। আকস্মিক গতিবিধিতে ককপিটের কিছু জিনিসপত্র এবং দুই পাইলটও আসন থেকে ওপরে উঠে যান।
পরে ক্যাপ্টেন নিজের আসনে ফিরে সিটবেল্ট বাঁধেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি সর্বোচ্চ নিরবচ্ছিন্ন শক্তি প্রয়োগ করলেও ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
তবে তদন্তকারীরা শুধু পাইলটের ভূমিকা নিয়েই থেমে নেই। বিমানের কারিগরি ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৌশলসংক্রান্ত নথিতে হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়া ও এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, রক্ষণাবেক্ষণ নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির জন্য পাইলটের আচরণ নাকি বিমানের কারিগরি ত্রুটি—কোনটি কতটা দায়ী, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই এর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও এনডিটিভি
.png)
সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন