নওগাঁর আত্রাইয়ে ‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে এর আগে সকাল ১১টায় আহসান উল্লাহ স্মারক সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি.এম. কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমার সরকারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কঠোর বার্তা ইউএনওর
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আত্রাই অঞ্চল প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এলাকার মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে বেগবান করতে দেশীয় মৎস্য সম্পদের সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, মুক্ত জলাশয়ে পোনা মাছ নিধন রোধ এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইউএনও বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে মৎস্য সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, মাছচাষি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মাছের আড়তে ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের নির্দেশনা
আলোচনা সভায় আত্রাই উপজেলার মাছের আড়তদারদের ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মাছ বিক্রি করতে আসা চাষি ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে যেন ৪০ কেজির বেশি মাছ নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আড়তদারদের সচেতন ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করতে হবে। জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আত্রাইয়ের মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আধুনিক মাছ চাষে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
অনুষ্ঠানে আত্রাইয়ের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রসার ঘটাতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, চাষি, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
.png)
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর আত্রাইয়ে ‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে এর আগে সকাল ১১টায় আহসান উল্লাহ স্মারক সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি.এম. কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রদীপ কুমার সরকারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কঠোর বার্তা ইউএনওর
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আত্রাই অঞ্চল প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এলাকার মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে বেগবান করতে দেশীয় মৎস্য সম্পদের সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, মুক্ত জলাশয়ে পোনা মাছ নিধন রোধ এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইউএনও বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে মৎস্য সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, মাছচাষি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মাছের আড়তে ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের নির্দেশনা
আলোচনা সভায় আত্রাই উপজেলার মাছের আড়তদারদের ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মাছ বিক্রি করতে আসা চাষি ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে যেন ৪০ কেজির বেশি মাছ নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে আড়তদারদের সচেতন ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করতে হবে। জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আত্রাইয়ের মৎস্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আধুনিক মাছ চাষে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
অনুষ্ঠানে আত্রাইয়ের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রসার ঘটাতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, চাষি, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
.png)
সম্পাদক : মাসুদ রানা
আপনার মতামত লিখুন