উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডিজিটাল : ||
পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা পরিহার করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তাঁরা বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।রোববার (১ নভেম্বর) নতুন মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার ফেসবুক পোস্টে এবং সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।শ্রমিক নেতারা বলেন, ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন শ্রমিকদের অধিকার। তবে সেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা কারখানায় হামলার মতো ঘটনা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে তাঁদের কর্মসংস্থান ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।বাবুল আখতার তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি তাঁদের ধৈর্য ধরতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শিল্পের সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ জড়িত।সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তারও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বলেন। তবে তিনি জানান, আন্দোলন হতে হবে শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা কিংবা উৎপাদন বন্ধের কারণে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কারখানায় হামলা, শ্রমিকদের মারধর কিংবা জোর করে কর্মীদের কর্মস্থল থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সতর্ক থাকার এবং নিজেদের দাবি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।নাজমা আক্তারের মতে, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা না গেলে শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে শ্রমিকদের চাকরি ও জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তিনি বলেন, চলতি বছরে অর্ডার কম থাকার কারণে শিল্প খাত এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শ্রমিক নেতা। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও গ্যাসসংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।নাজমা আক্তার আরও বলেন, আন্দোলনের জেরে মামলা, হামলা, চাকরিচ্যুতি কিংবা কালো তালিকাভুক্তির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ শ্রমিকেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার কারণে রাজধানীর মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। রোববার গাজীপুরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এদিকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একটি বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন নিয়োগ পেয়েছেন।অন্য বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।শ্রমিক নেতাদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ করা হবে। তাঁরা শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের পাশাপাশি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।