উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডিজিটাল : ||
গ্রেপ্তারকৃত চার শ্রমিক নেতার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন মালিক ও শ্রমিকরা। ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল ও দৈনিক বাংলা মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সরকার সমীপে ৪৮ ঘণ্টার কড়া আল্টিমেটাম দিয়ে শেষ হয়।সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করা হয়।প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ শেষে শ্রমিকরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে এসে জড়ো হন। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবুবকর সিদ্দিক সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশ পরিচালনায় সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমাদের চারজন নেতাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে—অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার ভেতর—তাদের মুক্তি দেওয়া না হলে এবং রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।”তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আমাদের অন্যান্য দাবিগুলো নিয়ে সরকার পরে আলোচনায় বসতে পারে, তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নেতাদের মুক্তি না দিলে আমরা যে দাবানল কর্মসূচি দেব, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও থাকবে না।”বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আসলাম মিয়া নামের এক সাধারণ রিকশাচালক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে গ্যাস, তেল, পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে—এসব কি আমাদের অটোখেকো বানিয়ে নষ্ট করা হয়েছে? আগের সময় তো এই সংকটগুলো এতটা প্রকট ছিল না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে, যার ওপর আবার রুজি-রুটির বাহন ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ করে চালকদের পেটে লাথি দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সবুজবাগ থানা পুলিশ ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সবুজবাগ থানা কমিটির সভাপতি আকবর, তাঁর ছেলে ইয়াসিন, সেন্টু এবং রহিম মহাজনকে আটক করে। পরবর্তীতে মামলা দায়ের করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অহেতুক গ্রেপ্তার ও উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদেই সোমবার সকাল থেকে রাজপথে নামতে বাধ্য হন হাজার হাজার রিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিক।