উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী :, নওগাঁ প্রতিনিধি ||
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত হত্যা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য এবং মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি রনি ওরফে রনি প্রামাণিককে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) রাতে নওগাঁর আত্রাই থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার রনি প্রামাণিক নাটোর জেলার উত্তর আলাইপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নামাজ আলীর ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মহাদেবপুর থানা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত দোকান বন্ধ করে মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পরপরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ। পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত হয়।নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রতের নেতৃত্বে মহাদেবপুর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।তদন্তের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে রনি প্রামাণিককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি ক্যাপ জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ৩৩ থেকে ৩৪টি সিম ব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মামলার সঙ্গে স্বর্ণ চুরি ও ডাকাতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট।গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অলিপ দত্ত হত্যা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।