উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল:, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নুসরাত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সম্পূর্ণ খালাস পাওয়ার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে নিজের দীর্ঘ সাত বছরের বন্দিজীবন ও সেই সময়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন কামরুন্নাহার মনি। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বিশেষ করে কারাগারে থাকা অবস্থায় সন্তানকে বড় করে তোলার সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মনি।কামরুন্নাহার মনি দাবি করেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তাই নিজের ওপর আনা অভিযোগ স্বীকার করতে রাজি না হওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তার চোখের সামনে অন্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি তাদের পোশাক খুলে অপমান করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব দৃশ্য দেখে সেখানে থাকা নারী পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ লজ্জায় কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতেন বলেও দাবি করেন মনি।কামরুন্নাহার মনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তের সময় পিবিআইয়ের রিমান্ডে তাকে টানা সাত দিন রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে তাকে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ কারণে সরাসরি পেটে বা শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত না করলেও তার দুই হাতে মোটা বেত দিয়ে সাধ্যমতো জোরে আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।মনি বলেন, ওই সময়ের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তার মনে পড়ে এবং জীবনের সেই দিনগুলো তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না।কারাগারেই জন্ম সন্তানের, মায়ের হাতেই পুতুল ও স্কুলব্যাগদীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে সন্তানের শৈশব কেটে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন কামরুন্নাহার মনি।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার সন্তান কারাগারেই জন্ম নিয়েছে। সন্তানকে একটি পুতুল কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার ছিল না। তাই মোজা দিয়ে নিজের হাতে পুতুল বানিয়ে সন্তানকে দিয়েছিলেন এবং সেটি দিয়ে কীভাবে খেলতে হয়, তাও শিখিয়েছেন।স্কুলের ব্যাগ কেমন হয়, তার সন্তান তা জানত না বলেও জানান তিনি। পরে নিজের হাতে তৈরি একটি ব্যাগে তিনটি বই দিয়ে সন্তানকে স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।মনি বলেন, মা ছাড়া কোনো সন্তান ভালো থাকে না—এমন বিশ্বাস থেকেই নানা কষ্টের মধ্যেও সন্তানকে নিজের কাছে রেখেছিলেন তিনি। বাবা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা যত্ন নিলেও মায়ের বিকল্প হয় না বলেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।কামরুন্নাহার মনি জানান, প্রায় সাত বছর ধরে কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন। মুক্তির পর তার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া এবং সন্তানকে নিয়ে নতুন করে পথচলা।তবে দীর্ঘ কারাবাস ও কথিত নির্যাতনের স্মৃতি তাকে এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যে অভিযোগে এত বছর কারাগারে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের রায়ে সেই মামলায় তিনি সম্পূর্ণ খালাস পেয়েছেন।