উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সঞ্জু বনিক সৌরভ :, পঞ্চগড় প্রতিনিধি ||
পঞ্চগড়ের বোদায় স্থানীয় শ্রমিকদের ছাঁটাই করে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে কাজী ফার্মসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিক ও এলাকাবাসী। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে একপর্যায়ে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বোদা উপজেলার পাথরাজ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও অবরোধে শত শত শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাসাইনগর এলাকায় অবস্থিত কাজী ফার্মস ফিডমিলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিককে সম্প্রতি ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।বিক্ষোভকারীরা বলেন, স্থানীয় এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশিত সুযোগ পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কাজ করা স্থানীয় শ্রমিকদের ছাঁটাই করে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা পাথরাজ এলাকায় ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে বিপুলসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম ও বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা। তারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন।আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও স্থানীয় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি সমাধান এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।অবরোধের কারণে মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রী ও চালকদের সাময়িক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।